বিডি প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সাথে আমরা আছি, তবে তার আগে মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার আত্মীয়-স্বজনরা কোটি কোটি গাছ কেটে চিংড়ি প্রকল্প তৈরি করা বন্ধ করে দিয়ে গাছগুলোকে রক্ষা করতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে। উপকূলীয় প্যারাবন নিধন বন্ধ করার উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে হবে।
মহেশখালীর স্থানীয় সংসদ সদস্য দিনের বেলায় মিটিংয়ে ও সংসদে বক্তব্য রাখলেও রাতের বেলায় বন নিধনকারীদের সাথে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বৈঠক করেন। এটা কি মুনাফিকি নয়। এমন প্রশ্ন করে দ্রুত সোনাদিয়া কি রক্ষা করার কথা বলেন।
মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য সভায় বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বেজাকে সোনা দিয়ে দিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৯ হাজার ৪৬৭ একর জমি বন কে ফেরত দিয়ে গেজেট প্রকাশ করলে ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সেই জমি এখনো বন কে বুঝিয়ে দেয়নি। একজন জেলা প্রশাসক সরকারের এই নির্দেশ কিভাবে অমান্য করে এমন প্রশ্ন করে সরকারের সংক্ষিপ্ত দপ্তরকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই জামায়াত নেতা বলেন, কক্সবাজারে ১২ হাজার ৯ শ কোটি টাকার একটি সড়ক নির্মাণে ৬ কোটি টাকার মতো অবৈধ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। বিনা টাকায় উত্তোলন করা এই বালুর বিল নেওয়া হবে সরকারের রাজস্ব কোষাগার থেকে। এভাবে সারাদেশে পরিবেশ ও প্রকৃতির উপর নির্যাতন চলছে।
কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কের কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে আয়োজিত মতবিনিময়ে সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার এখনো ব্লু ইকনোমিক এই কাজে লাগাচ্ছে না। মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মাঝামাঝি সাগরে মোবাইল তৈরি করার কাঁচামাল রয়েছে সাগরের নিচে। যা স্বর্ণের চেয়ে দামি। সরকার সাগরের নিচের এসব সম্পদ গুলোকে উত্তোলন করে কাজে লাগাতে পারে। ব্লু ইকোনোমিকে ব্যবহার করতে পারলে দেশের বাজেটের অর্ধেক আয় করা সম্ভব হবে।
তাই তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ কে রক্ষা করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।
মতবিনিময় সবার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম। মতবিনিময়ে সভায় বক্তব্য রাখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ১ আসন থেকে নির্বাচন করা জামায়াতের প্রার্থী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ৩ আসন থেকে নির্বাচন করা জামায়াতের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার ৪ আসন থেকে নির্বাচন করা জামায়াতের প্রার্থী ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।
জামায়াতের বিগত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রার্থীরা বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ গ্রহণের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা তুলে ধরেন এ মতবিনিময় সভায়।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, দৈনিক ইনকিলাব কক্সবাজার অফিস প্রধান শামসুল হক শারেক, এনটিভি কক্সবাজার প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী টিপু, বাংলাদেশ প্রতিদিন কক্সবাজার প্রতিনিধি হাসানুর রশীদ, বণিক বার্তা কক্সবাজার প্রতিনিধি ছৈয়দ আলম ও চ্যানেল নাইন কক্সবাজার প্রতিনিধি শেখ সেলিম। উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল হোসেন আযাদ ও জিএএম আশেক উল্লাহসহ জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।