ইকরাম চৌধুরী টিপু :
হাসপাতাল থেকে বাড়ির পথে লোক গবেষক মাস্টার শাহ আলম, আপনি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবেন
কক্সবাজারের একজন লোকজ সাহিত্যিক ও গবেষক লোক কবি শিক্ষক উখিয়া উপজেলার কৃতি সন্তান মাস্টার শাহ আলম অসুস্থ।
তিনি গত দুদিন আগে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েও সিট পায়নি। তার পরিবার চেয়েছিল সদর হাসপাতালের একটি কেবিনে রেখে তাকে চিকিৎসা করাবেন। কিন্তু তার ভাগ্যে কেবিন তো দুরের কথা একটি বেড জুটেনি।
হাসপাতালের করিডোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আল ফুয়াদ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
পুরো জীবন শিক্ষকতা আর লেখালেখি করে জীবন সায়াহ্নে তিনি। তার অনেক ছাত্র ছাত্রী ডাক্তার ইন্জিনিয়ার রাজনীতিবীদ হয়ে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজের নানা জায়গায় তারা আছেন। অনেকেই সমাজের উঁচু স্তরে কিংবা প্রশাসনের উঁচু পদে চাকুরী করছেন। মাস্টার শাহ আলম ৩৪ টি গ্রন্থের রচয়িতা। তার লেখা অনেক গান গ্রামীণ জনপদের মানুষের মুখে মুখে। তার সাথে সাহিত্যের আড্ডা খুবই মধুর এবং প্রানবন্ত। ঢাকায় বসবাস করলে তিনি অনেক বড়ো মাপের লেখক সাহিত্যিক কবি হতেন। হয়তো অনেক পদক জুটতো তার। সাংবাদিকরা তার সাক্ষাৎকার নিতেন। টিভি টকশোতে মাতিয়ে রাখতেন। সেই যোগ্যতা থাকা সত্বেও তিনি নিজ গ্রামেই রয়ে গেছেন। তার সাহিত্য চর্চাকে গ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে শহরমুখী করেননি।
আল ফয়াদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ির পথে। বার্ধক্যজনিত নানা রোগ তাকে পেয়ে বসেছে। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে বাসাতেই চিকিৎসা সেবা নিতে বলেছেন।
আ হা মাস্টার শাহ আলম ভাই
একটা সময়ে
আপনি কবিতা লিখে নিয়ে আসতেন আর এই কবিতার পটভূমি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডায় মাতিয়ে রাখতেন আর একটার পর একটা পান চিবুতেন।
অবসরে যখনই সুযোগ পেতেন মোবাইলে দোয়া চাইতেন। তার বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা কেউই তাকে দেখতে যেতে পারিনা।
কবি আপনি অনেক উঁচু স্তরের মানুষ। আপনার অদম্য মেধা ও লোকজ গবেষণা আমাদের আগামী প্রজন্মের সম্পদ।
আপনি বাড়িতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন, আপনি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
আল্লাহ আপনাকে দ্রুত শেফা দান করুন আমীন।
লেখক
এন টিভির স্টাফ রিপোর্টার