রুমি বড়ুয়া :
কক্সবাজারের উখিয়ায় 'সুপারি চুরির' অভিযোগে' খুঁটির সাথে বেঁধে লোহার রড ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে নির্যাতনের' ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার বিকালে র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-অধিনায়ক মেজর ছৈয়দ সাদিকুল হক এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার ফজল কাদের (৩৮), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২২), আব্দুর রহমান (৩৮) ও আজিজুল হক (৫২)।
এদের মধ্যে প্রধান আসামি ফজল কাদের তালিকাভূক্ত মাদক কারবারি এবং আওয়ামী যুবলীগের জালিয়াপালং ইউনিয়ন কমিটির সাবেক আহবায়ক। গত ২০১৮ সালে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বহিস্কার করে যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটিও বাতিল করেছিল সংগঠনের জেলা কমিটি।
ভূক্তভোগী মো. রায়হান শরীফ (১৯) রা জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার মোহাম্মদ আমিনের ছেলে। তিনি কক্সবাজার সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
মামলার নথির বরাতে সাদিকুল হক বলেন, গত শনিবার ( ২৫ মার্চ ) সন্ধ্যায় উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার বাসিন্দা ফজল কাদের এর বাগান থেকে সুপারির অভিযোগে ৫/৬ জন লোক মো. রায়হান শরীফকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে খুঁটির সাথে বেঁধে লোহার রড ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে উপর্যুপরি দুই ঘন্টা নির্যাতন চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে ফজল কাদের এর বাড়ীর আঙ্গিনা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা রায়হান শরীফকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার ( ২৬ মার্চ ) সকালে রায়হান শরীফের বাবা বাদী হয়ে ফজল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করেন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, " ঘটনাটির ব্যাপারে র্যাবের কাছে অভিযোগ আসার জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন আবাসিক এক হোটেলে মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন অবস্থানের খবর পায় র্যাব। পরে অভিযান চালিয়ে হোটেলটি থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "
জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর বলেন, ফজল কাদের এখন যুবলীগের সাথে সাংগঠনিকভাবে জড়িত নেই। গত ২০১৮ সালে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় তাকে বহিস্কার করে সাংগঠিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান মেজর ছৈয়দ সাদিকুল হক।