বিডি প্রতিবেদক :
মংডু শহরের পরিবেশ একটু ভালো হলেও গ্রামের পরিবেশে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে দুই রোহিঙ্গা নেতা বলেছেন, নাগরিকত্ব, নিজেদের ভিটে মাটি এবং চলাফেরার স্বাধীনতা দিলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। তবে কোন ক্যাম্পে নয় নিজেদের ভিটে বাড়িতে ফিরে যেতে চাই আমরা।
মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু শহর ঘুরে এসে শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে গণমাধ্যমে এই মতামত ব্যক্ত করেন ২৭ সদ্যসের প্রতিনিধি দলের সাথে যাওয়া দুজন রোহিঙ্গা নেতা।
তবে মিয়ানমার ঘুরে এসে সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতা শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, রাখাইনের মংডু শহর ও গ্রামের পরিবেশ এখন অনেক ভালো। মংডু শহরে অধিকাংশ রোহিঙ্গা কাজ কর্ম করছে ঘুরছে অবাধে। রোহিঙ্গা সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। একদিনে তা সমাধান করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের টেকসই এবং মর্যাদার ভিত্তিতে প্রত্যাবাশন করতে চায় বাংলাদেশ।
শরণার্থী, ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শুক্রবারে ভোর ৬ টায় রাখাইনে প্রত্যাবাশনের পরিবেশ দেখতে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ২০ রোহিঙ্গা সহ ২৭ সদেস্যের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার গিয়েছিলেন। দলটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাট দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের মংডু গিয়েছিলেন। এতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, নয়াপাড়া ও জাদিমুড়া এলাকায় অবস্থিত ২৪, ২৬ ও ২৭ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত ২০ জন রোহিঙ্গািএবং ৭ জন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন। পর্যবেক্ষক দলটি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় ফের টেকনাফ ঘাটে ফিরে আসেন। সেখানেই তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন,
এসময় রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ সুফিয়ান বলেন আমি যে গ্রামের বাসিন্দা সে গ্রামের নিজের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি আমার বাড়ি ভিটায় একটা ক্যাম্প করেছে। আমরা এই ক্যাম্পে নয় নিজের ভিটা মাটিতে ফিরতে চাই। আমাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে।
এর আগে ১৫ মার্চ টেকনাফ হয়ে বাংলাদেশে আসেন মিয়ানমার সরকারের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তারা বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা যাছাই-বাছাই করেন।
প্রতিনিধিদলটি টানা সাতদিন টেকনাফের স্থলবন্দর রেস্ট হাউজে অবস্থান করে বাংলাদেশে আশ্রিত ১৪৭ রোহিঙ্গা পরিবারের মোট ৪৮৬ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। আর তাদের দেওয়া বক্তব্য রেকর্ড করেন। গত ২২ মার্চ সকালে প্রতিনিধিদলটি নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারে ফিরে যায়।
ওই সময় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যাদের প্রত্যাবাসন করা হবে সেই সব রোহিঙ্গা যাতে আগে থেকে রাখাইনের সার্বিক পরিবেশ স্বচক্ষে দেখে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল শুত্রবার রাখাইন গিয়েছিলেন।