বিডি প্রতিবেদক :
৪ ঘন্টা তান্ডব চালিয়েছে কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোখা। এতে কোন নিহতের ঘটনা না ঘটলেও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবলদ্বীপ সেন্টমার্টিন এবং টেকনাফ পৌরসভা, সদর এবং সাবরাংয়ের কিছুৃ অংশ। তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে জেলার ৩ টি পৌরসভা ও ৫৭ টি ইউনিয়ন দূর্যোগ কবলিত হয়েছে। সোমবার সেন্টমার্টিন পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার,নৌ বাহিনী,কোষ্ট গার্ড ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষযক সম্পাদক সহ একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা দেখে, মঙ্গলবার থেকে পূর্ণবাসনের কাজ শুরুর কথা বলছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যা যা প্রয়োজন সব করা হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধান বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। তবে জেলার ৫৭টি ইউনয়ন ও ৩ টি পৌরসভার কবলিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২০ জন। এছাড়া আমরা প্রাথমিকভাবে ২০২২ টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত এবং ১০ হাজার ৪৬৯টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছি। এই মুহুর্তে আমাদের তৈরি খাদ্য, বিশুদ্ধ জল এবং শাড়ি, লুঙ্গি এবংথ্রি পিচ দরকার।
তিনি আরো বলেন, জেলার ৭৭৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে২ লাখ ৩৭ হাজার ২৪১ জন আশ্রয় গ্রহন করে তারা পরে নিরাপদে বাড়ী ফিরেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় মোখার তীব্রতায় সেন্টমার্টিন, টেকনাফ ও সাবরাংয়ে ব উড়ে গেছে ঘরবাড়ির চালা। উপড়ে গেছে গাছগাছালি। গাছ পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সেন্টমার্টিনকে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এটি। মোখার বাতাসের তীব্রতায় গাছ পড়ে এই ইউপির ১১ জন আহত হয়েছেন। দ্বীপের অধিকাংশ গাছ পালা ভেঙ্গে গেছে। বিধস্ত হয়েছে প্রায়ই ১২০০ ঘরবাড়ি।
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানিয়েছেন, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া ইউনিয়নের গাছের উপর তান্ডব চালিয়েছে মোখা। এসব এলাকার ৩০ শতাংশ গাছ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া বহু ঘর ভেঙ্গে গেছে।
আবার, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও অন্য উপকূলে মোখার প্রভাব তেমন পড়েনি। তবে, কিছু কিছু এলাকায় বাতাসে গাছের ঢাল-ফালা ভেঙ্গে পড়েছে। এতে আহত বেশ কয়েকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, মহেশখালীতে বাতাসের তিব্রতা বেশি হলেও জলোচ্ছ্বাস ছিল না। ফলে বড়ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে বাতাসে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আগে থেকেই লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছিল বলে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপংকর তঞ্চ্যঙ্গা বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলায় মোখার তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। হালকা বৃষ্টি ও বাতাসে কোথাও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. শাহী ইমরান বলেন, সোমবার আমি নিজেই সেন্টমার্টিন দ্বীপ দেখে আসলাম। ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেছি।
ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি প্রতিনিধি।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা দেখে, মঙ্গলবার থেকে পূর্ণবাসনের কাজ শুরুর কথা বলছেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যা যা প্রয়োজন সব করা হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরানের নেতৃত্বে
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম পিপিএম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্ষতিগ্রস্খ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন।