নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘীতে বৈধতার আড়ালে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করছে বালু ব্যবসায়ীরা। এতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্যহাতি। প্রতিদিন শত শত বালুবাহী ট্রাক, ডাম্পার চলাচল করায় যাতায়াত ব্যবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে।
রামু সড়কের খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী কালুর দোকান স্টেশন লাগোয়া ফাইভস্টার সড়ক হয়ে ৫শত গজ পশ্চিমদিকে বক্স কালভার্টের পাশে পাহাড়ি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এই বালু ব্যবসায়ীদের অভিনব কায়দায় বড় বড় পাহাড় কেটে বালুতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চোখে পড়ে। তারা প্রথমে স্যালু মেশিনের সাহায্যে পানির প্রেসার দিয়ে পাহাড়ের কিছু অংশ পানিতে নিমজ্জিত করে এবং পরে পাহাড়ের নিচের অংশ হতে আস্তে আস্তে মাটি সরে গিয়ে বড় গর্তের মধ্যে পাহাড়ের ওপর অংশ ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে গর্তের পানির মধ্যে স্যালু মেশিন বসিয়ে বালুতে রূপান্তরিত করে। এভাবে বড় বড় পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলছে দিনের পর দিন। ৪/৫টি স্যালু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এভাবে শ্যালু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের নামে ইতিমধ্যে তিনটি পাহাড় নিধন করা হয়েছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড় ও গাছপালা। সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকা থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি মহল পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদিঘী বনবিটের অধিনস্থ দারিয়ারদিঘী বালি মহলের ইজারাদার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কায়দায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বৈধতার আড়ালে অবৈধভাবে ইজারা এলাকার বাইরে সংরক্ষিত বনের ভিতর পানি চলাচলের ছড়ার পাশে ৪/৫টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে এসব বালু উত্তোলন করছে। বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালালেও এই স্থানে এখনো প্রশাসনের নজর পড়েনি। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানিয়রা জানান, বর্তমানে ১০০ ফুট প্রস্থ ও ৬০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন পাহাড় কাটা অবস্থায় দৃশ্যমান রয়েছে। তিনটি পাহাড় থেকে আনুমানিক দশ হাজার ডাম্পার বালু বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ ডাম্পার বালু মজুদ রয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগ হয়ত বিষয়টি অবগত আছেন। পথে পথে তাদের পাহারাদার থাকে, অপরিচিত কাউকে বা গাড়ি দেখলে ফোন করে মেশিন সরিয়ে ফেলে। এছাড়াও ১০/১২ জনের পাহারাদার ওখানে কাউকে জেতে দেননা। এভাবে পাহাড় কাটার কারণে বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে প্রবেশ করছে। মানুষের ফসল নষ্ট করছে। মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তের পানিতে পড়ে মারা পড়ছে বন্যহাতি। বালু বহনকারী ডাম্পার ট্রাক চলতে চলতে রাস্তাঘাট সব ধ্বংস করছে। ধূলোবালি সারা শরীরে এমনকি নাকের ভেতর ঢুকে যায়, যা পরবর্তীতে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে।
স্থানিয় সচেতন মহল জানান, এসব পাহাড় হাতি, শিয়াল, খরগোশ, বন মোরগসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র। এই পাহাড় নিধনের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যা পরিবেশ প্রকৃতির জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। এভাবে মাসের পর মাস পাহাড় ধ্বংসের ফলে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। যার দায় মানুষ এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে দারিয়ারদিঘী বনবিট কর্মকর্তা আরজু মিয়ার বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইলে ফেন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে রাজারকুল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন এর সাথে মোবাইলে কথা হয়। তিনি জানান, বালি উত্তোলনের নামে পাহাড় কাটার বিষয়টি অবগত হয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পাহাড় কাটার প্রমান পেয়েছি। যারা পাহাড় কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দারিয়ারদিঘী বনবিট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
##