শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সৈকতে সামুদ্রিক বর্জ্য পরিষ্কার অভযান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা চর্চায় কক্সবাজারে পিআইবির কর্মশালা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা উখিয়া-টেকনাফে হোমস্টেড গার্ডেনিংয়ের প্রভাব নিয়ে সমীক্ষার ফল স্ট্যান্ড রিলিজের পরও কক্সবাজার বিমানবন্দর ছাড়ছেন না ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গোলাম মোর্তোজা সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে ওয়ার্ল্ড ভিশনের নতুন অভিযাত্রা উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্র-মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ :আতঙ্কে স্থানীয়রা: অভিযানের দাবী কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ

‘হামুন’ তান্ডবে অচল কক্সবাজার

নিউজ রুম / ১৬৭ বার পড়ছে
আপলোড : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক :

আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের বহুআগেই  তান্ডব চালিয়ে কক্সবাজার অতিক্রম করে ঘূর্নিঝড় হামুন। তবে যাওয়ার আগে সাড়ে ৪ লাখ লোককে ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রায় ৫০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত করে ঘূর্নিঝড়টি। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিধ¦স্ত  করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে কক্সবাজারকে প্রায়ই অচল করে দিয়ে শান্ত হয়েছে ঘূর্নিঝড় হামুন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার পর পরই গড়ে ১০০ কি.মি. বেগে কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্নিঝড় হামুন। তবে চলে যাওয়ার আগে কক্সবাজার ও মহেশখালি পৌরসভা সহ জেলার ৭১ টি ইউনিয়নেই হামুন তান্ডব চালিয়েছে। এতে জেলার ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৯ জন বাসিন্দাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়া হামুন তার সর্বোচ্চ ১৪৮ গতিতে বিধ্বস্ত করেছে ৪২ হাজার ৯৫৯ টি ঘরবাড়ি। এর মধ্যে সম্পুর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে ৫ হাজার ১০৫ টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৪৯ টি। তাছাড়া হামুনের তান্ডবে পল্লী বিদ্যুতের ৩৫৪ টি বৈদ্যতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে, ২৩ টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে, ৪৯৬ টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে,৮০০টি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভা, সদর উপজেলা, মহেশখালী,কুতুবদিয়া,ও  চকরিয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে।  পাশপাশি এসব এলাকায় মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামুন তান্ডবে শহরের হলিডে মোড়, সদর হাসপাতাল সড়কেই উপড়ে পড়েছে ২৫টির বেশি গাছ। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে বৈদ্যুতিক তার। ফলে এসব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এলাকাগুলো এখনো বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কহীন।
শুধু এই সড়কই নয়, হামুনে লন্ডভন্ড হয়েছে পৌরসভার ১, ২, ৫,৬,৭,৮,৯ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড। তবে ১ নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আক্তার পাখি বলেন, হামুনে ১ নং ওয়ার্ডের প্রায়ই ৯৫ ভাগ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্যানেল মেয়রের এমন তথ্য পেয়ে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া গ্রামের লুৎফুন নাহারের সঙ্গে।
নিজের ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমি ৫ মেয়ে নিয়ে এই ঘরে থাকতাম। এখন আমি কি করব বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ওই এলাকার বাসিন্দা জেলে ফরিদুল আলম বলেন, আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের কোনভাবেই সতর্ক করা হয়নি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, হামুন তান্ডবে শহরের চেয়ে গ্রামের অবস্থা করুণ। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহেশখালি ।
এবিষয়ে মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা বলেন, দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কে উপসড়কে বুধবার রাত সাড়ে ৭ পর্যন্ত অনেকগুলো গাছ পড়ে আছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের নেটওয়ার্ক নেই। যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি পানের বরজ বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হামুন তান্ডবে মহেশখালিতে নিহত হয়েছেন একজন। এছাড়া  ১০ হাজার ঘরবাড়ি ও ৫ হাজার পানের বরজ বিধ্বস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন,  ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ চলছে। আপাতত ১৫০ পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে ।
এদিকে বিদ্যুৎ ও মোবইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কক্সবাজারের স্থানীয় একটি পত্রিকাও বুধবার প্রকাশিত হয়নি।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বুধবার কক্সবাজারের স্থানীয় ২৪টি দৈনিক প্রকাশিত হয়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতে এ পর্যন্ত তিনজন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। হামুনের আঘাতে সড়ক উপসড়কে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুটি। বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক না থাকায় কক্সবাজারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।  অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের কাজ চলছে। পুরো জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সচল করতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর