শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সৈকতে সামুদ্রিক বর্জ্য পরিষ্কার অভযান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা চর্চায় কক্সবাজারে পিআইবির কর্মশালা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা উখিয়া-টেকনাফে হোমস্টেড গার্ডেনিংয়ের প্রভাব নিয়ে সমীক্ষার ফল স্ট্যান্ড রিলিজের পরও কক্সবাজার বিমানবন্দর ছাড়ছেন না ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গোলাম মোর্তোজা সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে ওয়ার্ল্ড ভিশনের নতুন অভিযাত্রা উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্র-মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ :আতঙ্কে স্থানীয়রা: অভিযানের দাবী কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ

স্টেডিয়ামের ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি

নিউজ রুম / ১১৬ বার পড়ছে
আপলোড : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

কক্সবাজারে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট-২০২৫’ এর ফাইনাল খেলায় টিকেট কেটে ঢুকতে না পারার অভিযোগে উত্তেজিত দর্শকদের কর্তৃক স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুরের পাশাপাশি তান্ডব চালানোর ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন।
শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম’ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেডিয়াম ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। পরে গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে কথা বলেন।
এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে স্টেডিয়ামে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। উত্তেজিত দর্শকরা ভাংচুরের পাশাপাশি যে তান্ডব চালিয়েছে তা তদন্তে প্রশাসন দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ঘটনায় ক্ষতক্ষতি নিরূপনে গণপূর্ত বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, ঘটনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোন ধরণের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নথিভূক্ত করা হবে।
ধারণ ক্ষমতার বেশী দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছিল এবং অনেকে টিকেট সংগ্রহ করেও ভিতরে ঢুকতে না পারায় দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে এই তান্ডব চালিয়েছে বলে মন্তব্য করে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার সময় অন্তত ৫০ হাজারের মত দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে ছিল। এসময় টিকেট কেটে অসংখ্য দর্শকও ঢুকার জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষা করছিল।
তবে সমবেত দর্শকদের তুলনায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল ছিল জানিয়ে সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, পুলিশ সহ বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ ধর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। যাতে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলার ছিল শুক্রবার। রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩ টায় ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৭ টা থেকে স্টেডিয়ামে গিয়ে টিকেট সংগ্রহ শুরু করেছে দর্শকরা। এই টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও দর্শকের উপস্থিত দেখে ক্রমাগত বাড়তে থাকে। দুপুরে ২ টা পর্যন্ত আয়োজক কমিটির অতিরিক্ত মূল্যে ধারণ ক্ষমতার ৬ গুণ টিকেট বিক্রি করে দেয়।
এতে অসংখ্য দর্শক টিকেট কেটে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পারায় উত্তেজিত হয়ে উঠে। অতিরিক্ত দর্শক গ্যালোরিতে বসার স্থান না পেয়ে গেইট ভেঙে আড়াই টার দিকে দর্শক পুরো মাঠ দখল করে নেন। এতে কারণে মাঠে খেলা পরিচালনার সুযোগ না হওয়ায় আয়োজক সহ পুলিশ ও র্যাব সহ সেনা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু দফায় দফায় চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশে ব্যর্থ দর্শকরা স্টেডিয়ামের বাইর থেকে ভবনে ভাংচুর শুরু করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মধ্যে বিকাল ৫ টা ১৫ মিনিটের দেখা মাঠ থাকা দর্শকদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লাঠি চার্জ করে বের করে দিতে সক্ষম হয়। এর পর মাঠে খেলা পরিচালনার প্রস্তুতি নিলেও গ্যালোরিতে দর্শক ও বাইরের দর্শকরা এক যোগে হামলা করে গ্যালোরি, মাঠ, প্রেস বক্স সহ সব কিছু ভাংচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন, পুলিশের ৩ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে ফাইনাল খেলা স্থগিত ঘোষণা করে আয়োজক কমিটি।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর