বিডি প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ুর প্রভাব চরম আকার ধারণ করেছে। গবেষকরা ইতিমধ্যে ২১ টি প্রভাব চিহ্নিত করেছে। উপকূলে যেমন সমস্যা রয়েছে তেমনি সম্ভাবনাও রয়েছে। এখানকার পরিবেশ জীববৈচিত্র্য ও মানুষজনের জীবন-যাপন নিরাপদ করার পাশাপাশি উপকূলকে রক্ষায় পৃথক বোর্ড বা কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে উপকূলীয় নদী সম্মেলন থেকে।
দেশের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে উপকূল। ঝড় জলচ্ছাস বন্যা সহ নানা প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে উপকূলের মানুষের জীবন যাপন। উপকূলীয় এলাকার নদীগুলোর পরিবেশ প্রতিবেশ ঠিক রাখার পাশাপাশি উপকূলের সম্ভাবনা গুলোকে কাজে লাগাতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপকূলীয় নদী সম্মেলন।
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল আয়োজিত উপকূলীয় নদী সম্মেলনে উঠে আসে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার চিত্র। উপকূলের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টুর উপস্থাপনায় উপকূলের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা উঠে আসে। উপকূল নিয়ে কাজ করা এই সাংবাদিক সম্মেলনের পাওয়ার প্রেসেন্টেশন দেওয়ার পর বলেন, উপকূলীয় এলাকাকেই বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। উপকূলকে রক্ষা করতে না পারলে দেশেই অনেক সমস্যা তৈরি হবে। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ভিসি প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ুর প্রভাব চরম আকার ধারণ করেছে । ইতিমধ্যে গবেষকরা ২১ টি প্রভাব চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২০ জন গবেষক এটি নিয়ে কাজ করেছে। তারা সরকারকে প্রস্তাবনাও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নদী পরিব্রাজক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশের রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, টেকনাফের নাফ নদী থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কালিন্দী রায়মঙ্গল সীমান্ত নদী পর্যন্ত বিশাল উপকূলে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য উপকূলীয় নদী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উপকূলের বিশাল সম্ভাবনা এখন সংকটে রূপ নিয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জীববৈচিত্র্য কে উদ্ধার করতে হবে, পাশাপাশি সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রাকে নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাজ করার জন্য একটি উপকূলীয় কমিশন বা বোর্ড গঠন করা খুবই জরুরী। সরকারকে তারা এই সম্মেলন থেকে পুকুরের বোর্ড গঠনের জন্য দাবি জানান।
নদী পরিব্রাজক দল আয়োজিত কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত উপকূলীয় নদী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ডক্টর মোক্তার আহমদ। তিনি বলেন, রেজু নদীতে এখন বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে, এসব মাছ আবার মানুষ খাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে নদী। বাকখালী নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী।
এই উপকূলীয় নদী সম্মেলনে সারা দেশ থেকে নদী নিয়ে কাজ করেন এমন অর্ধশত প্রতিনিধি সহ নানা শ্রেণী পেশার পরিবেশপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
নদীর পরিব্রাজক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান শিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, নদীর পরিব্রাজক দল কক্সবাজার শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান নোমান।
সম্মেলনে শিক্ষাবিদ নাসির উদ্দিন, আইনজীবী এডভোকেট রমিজ উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ইসরাফিল হোসেন মনিরুজ্জামান মিয়া বক্তব্য রাখেন।
উপকূলীয় নদীগুলোর পাশাপাশি পাহাড়ি নদীসহ দেশের পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় এ সম্মেলন থেকে। পাশাপাশি উপকূল এলাকার নদী রক্ষায় একটি কক্সবাজার ঘোষণা পত্র প্রকাশ করা হয় সম্মেলন শেষে।