শিরোনাম :
উখিয়ায় সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু গবেষণা-ভিত্তিক আচরণ পরিবর্তনে প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগের কর্মশালা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শনে বিডিআরসিএস চেয়ারম্যান সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তার অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল : বিভিন্ন মহলের শোক টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা ইংরেজি অলিম্পিয়াডে যুক্তরাজ্য হতে সমুদ্রকন্যা ফিরলেন মেডেল হাতে মহেশখালীর বন্যাকবলিত ৭০০ পরিবারকে সিপিজিসিবিএলের ত্রাণ সহায়তা সাতকানিয়ায় বন্যার্ত ৮৫০ মানুষকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাদ্রাসাভবনের ওপর পাহাড় ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত

হাতি বাঁচলে টিকবে জীববৈচিত্র্য, বাড়বে বনাঞ্চলের সবুজায়ন

নিউজ রুম / ৩৭ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

 

জিয়াউল হক জিয়া :

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় হাতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাতি শুধু বনের একটি বন্যপ্রাণী নয়, বরং প্রাকৃতিকভাবে বন সম্প্রসারণ ও বৃক্ষবৈচিত্র্য বৃদ্ধির অন্যতম সহায়ক বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

শনিবার (২০ জুন) সকালে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ‘হাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ’ বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন, দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শীতল পাল।

প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, কেবল চারা রোপণের মাধ্যমে একটি সুস্থ বনভূমি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে হাতি বিভিন্ন ফল ও বীজ খাওয়ার পর মলের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা থেকে নতুন গাছ জন্ম নেয়। এ কারণে হাতিকে ‘প্রকৃতির বন্ধু’ এবং ‘বনের মেগা-গার্ডেনার’ বলা হয়।

বক্তারা আরও জানান, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশ গাছের বীজ বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক টন জৈব সার উৎপাদন করে, যা বনাঞ্চলের উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশিক্ষণে হাতির আচরণ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।

বন কর্মকর্তারা জানান, হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন প্রাণী। তারা দীর্ঘ সময় ধরে চলাচলের পথ ও আবাসস্থলের স্মৃতি ধরে রাখতে পারে। করিডোর সংকুচিত হওয়া, আবাসস্থল দখল কিংবা বিরক্তির কারণে হাতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। হাতি উত্তেজিত হলে তার কানের অবস্থান, লেজের নড়াচড়া ও শারীরিক ভঙ্গিমা পরিবর্তিত হয়। এসব লক্ষণ দেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় প্রশিক্ষণে।

বন বিভাগ জানায়, হাতির আক্রমণে ফসল, ঘরবাড়ি কিংবা মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। অন্যদিকে হাতি হত্যা বা আহত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রশিক্ষণে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে হাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বনাঞ্চল ও হাতির বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় এ প্রাণীটি ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে। তাই পরিবেশ, জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাতির নিরাপদ আবাসস্থল ও করিডোর সংরক্ষণ জরুরি।

বক্তারা বলেন, হাতি সংরক্ষণ করা গেলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ত্বরান্বিত হবে, বৃদ্ধি পাবে বৃক্ষের সংখ্যা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

###


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর