শিরোনাম :
কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার রামুতে সাড়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি

টেকনাফে দূর্বৃত্ত কর্তৃক ‘অপহরণ নাটক সাজিয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশু তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণের’পর মিললো মৃতদেহ : ঘাতক মাদ্রাসা ছাত্র আটক

নিউজ রুম / ১১২ বার পড়ছে
আপলোড : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

আরাফ মোরশেদ :
কক্সবাজারের টেকনাফে দূর্বৃত্ত কর্তৃক ‘অপহরণ নাটক সাজিয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশু তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণের’পর মিললো মৃতদেহ; এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নেব ভারপ্রাপ্তে
অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক।
টেকনাফে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ফারিহা জান্নাতের (৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ওই শিশুকে খাবারের লোভ দেখিয়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেধে ধর্ষন করে একই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী, নিকটাত্মীয় মো: এরফান। ধর্ষনের একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হলে তাকে নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। পরে মরদেহ মাদ্রাসার পেছনের পেছনের একটি নালায় ফেলে দেয় এরফান।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ এরফান (১৭) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়ার মুহাম্মদ আলী আহমদের ছেলে। সে হ্নীলা দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় কোরআনে হাফেজ বিভাগের ছাত্র। তার বাবা ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
নিহত শিশু শিক্ষার্থী ফারিহা খানম জেরিন (৯) একই মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো।
নিহত শিশু ও গ্রেপ্তার কিশোর পরস্পর দুঃসম্পর্কের মামা-ভাগ্নি। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
মেজর সাদিকুল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ফারিহা খানম জেরিন নামের মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরে রাতে ওই শিশুর মাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা রাতেই ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিষয়টি অবহিত করেন। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। এতে ঘটনাটি র্যাবের নজরে আসার পর রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকালে দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তি অবস্থান করছে খবরে র্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় মাদ্রাসাটির ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে আত্মগোপন অবস্থায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“ পরে গ্রেপ্তার কিশোরের স্বীকারোক্তি মতে মাদ্রাসাটি সংলগ্ন একটি পাহাড়ী নর্দমা থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে “ বলেন তিনি।
এরপর গ্রেপ্তার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার ব্যাপারে চাজ্ঞল্যকর তথ্য পায় বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সাদিকুল বলেন, ফারিহা খানম জেরিন বাড়ীর পার্শ্ববর্তী দোকানে যান। এসময় মোহাম্মদ এরফান নাস্তার লোভ দেখিয়ে সু-কৌশলে মাদ্রাসায় তার বাবার অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর সে (এরফান) অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে জেরিনের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে এরফান জোরপূর্বক তাকে ( ফারিহা খানম জেরিন ) ধর্ষণ করে।

“ ধর্ষণের কারণে ফারিহা খানম জেরিনের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এরফান নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে (জেরিন) হত্যা করে। এরপর নিহতের পরিহিত কাপড়-চোপড় সে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী নালায় ফেলে দেয়। “
“ এক পর্যায়ে গভীর রাতে এরফান নিহতের মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঝোপ জঙ্গলপূর্ণ চিপা নর্দমায় ফেলে রাখে। “
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, “ রাতে ঘটনাটিকে অপহরণ নাটক সাজাতে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ এরফান মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিহত শিশুর মায়ের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। “
গ্রেপ্তার কিশোরকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান মেজর সাদিকুল হক।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর