শিরোনাম :
কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার রামুতে সাড়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি

টেকনাফে হা ডু ডু খেলার ঘটনায় হত্যাকাণ্ড; দু’যুগ পর রায়ে দু’ভাইয়ের যাবজ্জীবন

নিউজ রুম / ১০৭ বার পড়ছে
আপলোড : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফে হা ডু ডু খেলার ঘটনায় সংগঠিত হত্যাকান্ডের দু’যুগ পর রায় ঘোষণা হয়েছে। এতে ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায় প্রমাণ হওয়ায় অভিযুক্ত দুই সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। রোববার (৬ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪র্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এ রায় দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলো, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকার আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৬০) ও শামশু উদ্দিন (।

একই মামলায় অপর দুই আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেখসুর খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াপাড়ার আমান শরীফের ছেলে সোনা মিয়া ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালীর আবুল কালামের ছেলে কামাল উদ্দিন।

আদালত সূত্র জানায়, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকায় ১৯৯৯ সালের ২৬ এপ্রিল হা ডু ডু খেলায় মামলার বাদি সুলতান আহমদের ছেলে শামশুল আলমের শ্যালক রবিউল আলমের সাথে অভিযুক্তদের ভাই কামাল উদ্দিনের ঝগড়া হয়। এর সূত্র ধরে জাহাঙ্গীর আলম তার অপরাপর ভাইদের নিয়ে দা, ছুরিসহ রবিউল আলমকে ধাওয়া করে। এ সময় হৈ চৈ শুনে বাদির ছেলে শামশুল আলম বাড়ি থেকে বের হলে ধাওয়াকারিদের সামনে পড়ে যান। ঘটনা জানতে চাইলে তারা শামশুল আলমকে প্রহার ও উপর্যপূরী ছুরিকাঘাত করে। রক্ষাক্ত শামশুল আলমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে টেকনাফ থানায় ২৮ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা (২০/১৯৯৯) দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে চার জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২০০৫ সালের ১১ মে এ মামলার চার্জগঠন হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত ৬ আগস্ট এ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সওকত বেলাল বলেন, আসামী শামসুদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দন্ড বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তবে, আসামীগণ অভ্যাসগত ও পেশাগতভাবে অপরাধী নন। এটি তাদের প্রথম অপরাধ। আসামী জাহাঙ্গীরের বর্তমান বসয় ৬০ বছর এবং ইতোপূর্বে ৭ বছর হাজত বাস করেছেন। জামিন পেয়ে কখনো পলাতক হননি। তবে, অন্য অভিযুক্ত আসামী শামসুদ্দিন শুরু থেকে পলাতক। আসামীদের বয়স এবং দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিচারাধীন মামলাসহ সার্বিক বিবেচনায় আসামী জাহাঙ্গীর ও শামসুদ্দিনকে যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এসময় উভয়কে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো দুই বছর করে সশ্রম কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। রায় ঘোষণা কালে অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন।

এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। ###


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর