বিডি প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর আবু ছৈয়দ হত্যা মামলার মুল পরিকল্পনাকারী সহ তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার রাতে পেকুয়া উপজেলার মগনামা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার র্যাব ১৫ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক লে কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান গত ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের আফজলিয়াপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আবু ছৈয়দ কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাসহ তার একটি পা কেটে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আবু ছৈয়দের স্ত্রীসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনায় ১১ অক্টোবর নিহতের ছেলে ছৈয়দ মোহাম্মদ ইমন বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৩ অক্টোবর মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল পেকুয়া উপজেলা মগনামা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামী ও অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী নুরুল ইসলামের পুত্র নেজামুল ইসলাম মোজাহিদ সহ ৩ জন কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো একই এলাকার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র আমিরুজ্জামান ও তার ভাই জামিল ইব্রাহিম ছোটন।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেন এবং ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিকট হতে আরো জানা যায় যে, ঘটনার ৩ দিন আগে হত্যাকারীরা নিজেদের মধ্যে গোপন সভা করে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। সে মোতাবেক গত ১০ অক্টোবর বিকেল ৩ ঘটিকায় নিহত আবু ছৈয়দ ভার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সেখানে হানা দেন। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবু ছৈয়দাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। প্রাণ বাঁচাতে আবু ছৈয়দ খাটের নিচে ঢুকে পড়লে সেখান থেকে তাকে টেনে-হিচড়ে বের করে হাত-পা চেপে ধরে কোপানোর পর মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় আবু ছৈয়দের ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যান তারা। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে মারা যান আবু ছৈয়দ।