বিশেষ প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)’র কর্মকর্তা বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদী নিহতের ঘটনায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) আমির আতাউল্লাহ জুননীসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে বান্দরবানের আদালত।
গতকাল বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোছাইনের আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। সে সঙ্গে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।
র্যাব, পুলিশ ও সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কাছে মাদকবিরোধী অভিযানে যান র্যাব।
ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের বিশেষ একটি দল। এ সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রিজওয়ান রুশদী ও রোহিঙ্গা নারী সাজেদা বেগম । গুলিবিদ্ধ হন র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সদস্য সোহেল বড়ুয়া সহ কয়েকজন।এ ঘটনায় গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ডিজিএফআই কক্সবাজার কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর আরসার আমীর আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনি ও আরসা ওস্তাদ খালেদ সহ ৪৯ জনের নামে আদালতে অভিযোগ দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ওই অভিযোগ পত্রটি আজ আদালত গ্রহন করেছেন। এছাড়া মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন।
পুলিশ একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে ওই দুইজন ছাড়াও শূন্যরেখার আশ্রয়শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মাস্টার দিল মোহাম্মদ, সেক্রেটারি মৌলভি আরিফ, মাওলানা মোস্তফা, আবদুর রহমান, আরসার সদস্য জুবায়ের, শাকের কাউসার, নোমান চৌধুরী, জিন্নাত উল্লাহ, লাল মোহাম্মদ, হাফিজ নুর, রহিম উল্লাহ, মৌলভি আজিজের নামও রয়েছে।
এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাফুজ ইমতিয়াজ বলেন, এ মামলার ১৩ জন আসামী গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে আসামীদের অনেকে মিয়ানমার সহ দেশের বাইরে পালিয়ে রয়েছেন বলে গ্রেফতারে সময় লাগছে বলেও দাবী করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এবিষয়ে বান্দরবান আদালত পুলিশের পরিদর্শক একে ফজলুল হক বলেন, গতকাল ৪৯ জন আসামি বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। আসামীদের মধ্যে ৯ জন বান্দরবান কারাগারে রয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবদুল মান্নান বলেন, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগীতায় ডিজিএফআই হত্যা মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি ৠাবের কয়েকটি টিম কাজ করছে। তবে আসামীরা অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদেরকে ধরতে সময় লাগছে।