সাকলাইন আলিফ :
কক্সবাজারে স্পার আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিং, মাদক সেবন , ছিনতাই অনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ চলছে নানা অপরাধ। এসব অপরাধ রোধে অভিযান চালিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। আবিষ্কার করেছে বিশেষ সুড়ঙ্গ। স্পা কর্মীসহ ৩৮ জনকে আটক করে টুরিস্ট পুলিশ।

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আপেল মাহমুদ জানান, রোববার মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের আবাসিক কটেজ জোন এবং কলাতলী মোড় এলাকায় পৃথক এ অভিযান চালানো হয়। আটকদের মধ্যে রয়েছে ১২ জন পুরুষ, ২১ জন নারী এবং একজন স্পা পরিচালকসহ ৫ জন নারী স্পা-কর্মি।ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটন জোনে কিছু সংখ্যক আবাসিক কটেজ এবং স্পা সেন্টার ঘিরে কতিপয় অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আর চক্রটির সদস্যদের হাতে নানা কৌশলে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ব্লাকমেইলিং, ছিনতাই ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। পর্যটক ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন; যেখানে গড়ে উঠেছে পর্যটকদের থাকার দুই শতাধিক আবাসিক কটেজ। সেখানকার সাইনবোর্ড বিহীন ৬/৭ টি কটেজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের কৌশলে জিন্মি করে ব্লারমেইলিং, মাদকসেবন, ছিনতাই ও অনৈতিক কর্মকান্ডসহ নানাভাবে হয়রানির। রোববার মধ্যরাতে সেখানকার সাইনবোর্ড বিহীন ‘ঢাকার বাড়ী’ ও ‘শিউলি’ নামের দুইটি কটেজে ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২১ জন নারী ও ১২ জন পুরুষকে আটক করেছে। অভিযানের টের পেয়ে কটেজ দুইটির গোপন সিঁড়ি ও সুরঙ্গ দিয়ে আরও বেশ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এসময় সেখানে সন্ধান পাওয়া যায় গোপন কক্ষের; যেখানে পর্যটকদের জিন্মি করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং নির্যাতন চালানোর কথা জানান টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, সেখানে তারা এক বিশেষ সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করেছে। যার মাধ্যমে ভিতরে অন্য একটি রুমে পর্যটকদের আটকে রেখে নির্যাতন করে চাঁদা আদায় করা হতো।

এদিকে রোববার মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড় সংলগ্ন ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্ট নামের আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন একটি স্পা সেন্টারের নারী পরিচালকসহ ৫ জন তরুণীকে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
টুরিস্ট পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন,হোটেলটির ভিতরে একটি গোপন কক্ষে স্পা সেন্টারের আড়ালে চলতো পর্যটকদের হয়রানি ও ব্লাকমেইলিং। আর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আদায় করা হতো মোটা অংকের টাকাও। সংঘবদ্ধ একটি চক্র পর্যটকদের জিন্মি করে চালাত ছিনতাইসহ নানাভাবে হয়রানি। শহরে এ ধরণের স্পা সেন্টার রয়েছে ৩৬ টির বেশী।
অভিযানের বিষয়ে আবাসিক হোটেল ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টের এ কর্মচারি জানালেন, ১০ তলার এ হোটেলটিতে একাধিক জনের মালিকানা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রান্ড ফ্লোর থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ভূমি মালিকের এবং চতুর্থ তলা থেকে দশম তলা পর্যন্ত ফ্ল্যাটগুলো বিভিন্নজনের মালিকানায়। রোববার রাতে অভিযানের সময় তিনি হোটেলে দায়িত্বরত ছিলেন না। আর স্পা সেন্টারটি জনৈক নারী ভূমি মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন। তবে স্পা সেন্টারটিতে কি ধরণে কর্মকান্ড সংঘটিত তা তিনি জানেন না।
পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন
কক্সবাজার শহরে অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার রয়েছে ৩৬ টি এবং লাইট হাউজ সংলগ্ন এলাকায় আবাসিক কটেজ রয়েছে দুই শতাধিক। শুধুমাত্র পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। আর নিয়ন্ত্রণহীন এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত সংঘটিত নানা অপরাধের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পের উপর।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে এসব স্পার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।