বিডি প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাড়াশী অভিযানে বেশ কিছু হ্যান্ডগ্রেনেড, ওয়াকিটকি, অস্ত্র ও গুলিসহ আরসা’র চার সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন পুলিশ।
রোববার বিকাল ৪ টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক ( এডিআইজি ) মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি জানান, রোববার ভোর রাত ৩ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এস-১/বি-৭ ব্লকের কাঁটাতারের সীমানার বাইরে গঁইয়াম বাগানে অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হল, উখিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৮১ ব্লকের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে আমির হোসেন (২৯), একই ক্যাম্পের এইচ-১০০ ব্লকের ফজল করিমের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩২), উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-৪ ব্লকের আব্দু সালামের ছেলে সৈয়দুল আমিন (৩০) এবং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-১ ব্লকের বাদশা মিয়ার ছেলে মো. হারুন (২২)।
গ্রেপ্তাররা মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা’র সদস্য ও একাধিক মামলার এজাহারভূক্ত আসামী বলে জানান এপিবিএন এর অধিনায়ক।
মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, রোববার ভোর রাতে উখিয়া উপজেলার ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতিপয় অস্ত্রধারী লোকজন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে খবরে এপিবিএন পুলিশের একাধিক দল সাড়াশী অভিযান চালায়। এতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুষ্কৃতিকারিরা এপিবিএন সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে এপিবিএন সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এপিবিএন সদস্যরা ৪ জন দূর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম।
“ পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য মতে, আরসা সন্ত্রাসীদের আস্তানায় তল্লাশী চালিয়ে পাওয়া যায় ৪ টি হ্যান্ডগ্রেনেড, দেশিয় তৈরী ৭ টি বন্দুক, চার্জারসহ ২ টি ওয়াকিটকি, ৯ টি গুলি, হ্যান্ডগ্রেনেডে ব্যবহৃত ২ প্যাকেট লোহার বল, ২ টি কিরিচ দা ও কয়েকটি হেলমেট। “
এপিবিএন এর অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তাররা সকলে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা’র সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র ও চাঁদাবাজীসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের আইনে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ ইকবাল।