
এস এম রুবেল :
কক্সবাজারের দীপাঞ্চলীয় উপজেলা মহেশখালীর পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা, অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসন, কোহেলিয়া নদীর রক্ষা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চ।
আজ মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিকি মার্মার মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে যেসব বিষয়গুলো দাবি আকারে উপস্থাপন করা হয় তার মধ্যে রয়েছে।
ক) মহেশখালী দ্বীপে চলমান পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ যেমন- প্যারাবন কাটা, পাহাড় ও বন কাটা, কৃষি জমি ধ্বংস, নদী হত্যা দ্রুত বন্ধ করা।
খ) চলমান মেগা প্রকল্পে দ্বীপের ৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়৷ কিন্তু জমির ন্যায্য মূল্য, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হয়নি। দ্রুত তা দেয়ার ব্যবস্থা করা।
গ) অধিগ্রহণকৃত জমির কারণে লবন, মাছ, কাকড়া চাষে নিয়োজিত ১৫ হাজার মানুষ কর্ম হারিয়েছে। তাদের কর্ম ফিরিয়ে দেয়া।
ঘ) প্রকল্পের বর্জ্য ও নদীর উপর রাস্তা নির্মাণের কারণে ভরাট হয়েছে কোহেলিয়া নদী। ফলে ২ হাজার ২’শ জেলে কর্মহীন হয়েছে, আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে চলে গেছে। সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।
ঙ) প্রকল্প এলাকা বিশেষ করে ধলঘাটা-মাতারবাড়িতে সুপেয় পানির স্থর নীচে নেমে গেছে। সেই বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া।
চ) টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভাঙ্গছে এখানকার মানুষের ঘরবাড়ি, বিনষ্ট হচ্ছে সম্পদ। দ্রুত সময়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান।
ছ) মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় ৪৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘ বছর গেলেও ৬টি পরিবারের ভাগ্যে ঘর জুটেনি। আর কর্তৃপক্ষ রেজিঃকবলা সম্পাদন করেনি পূনর্বাসনকৃত ঘর গুলোর। এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া।
মহেশখালীর তরুণ প্রতিভাবান, পরিবেশ কর্মী, গণমাধ্যম কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, এসব তরুণ প্রজন্মের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এ দ্বীপটির সম্পদকে আর কেউ লুটেপুটে খাওয়ার সাহস করবে না। মহেশখালীতে এ সব তরুণদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি বৈষম্যহীন সমাজ এমনটি প্রত্যাশা করেন দ্বীপের সাধারণ বাসিন্দারা।