শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবল নিয়োগ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ভোলায় মানববন্ধন: প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের দাবি Speakers’ demands at the World Environment Day 2026 human chain. Save water bodies, prevent groundwater depletion কক্সবাজারে পাতলী খাল পরিদর্শন করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি কক্সবাজারের মহেশখালীর মানুষের মুখে হাসি ফুটালো আইএসডিই বাংলাদেশ সড়কের আশপাশে পশুর হাট বসলে আইনি ব্যবস্থা -এমপি কাজল চকরিয়ায় বি.এম চর ইউনিয়নে ১৫শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ

হামের তীব্র ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী; মাঠে এমএসএফ

নিউজ রুম / ৩২ বার পড়ছে
আপলোড : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

বাংলাদেশজুড়ে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। সংস্থাটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে সক্রিয় সহায়তা দিচ্ছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যেখানে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জনের বেশি সম্ভাব্য এবং ৪০ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও প্রায় ১৬০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এমএসএফ-এর কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, মার্চ থেকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল মাসে আরও তীব্র হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অনেকের মধ্যে গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

শুধু এপ্রিল মাসেই এমএসএফ কক্সবাজারে ২৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় চার গুণ বেশি। এর মধ্যে ৮২ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৯ এপ্রিল জামতলী ক্যাম্পে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছেছে এবং শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি চলছে।

গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কুতুপালং হাসপাতালে ২০ দিনে ভর্তি হওয়া ৭১ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনকে ইনডোর চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাম্পের ঘনবসতি ও অনিরাপদ পরিবেশ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ টিকাদানের নিম্ন হার। ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত রোগীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই টিকা নেয়নি।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ২৬ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে এমএসএফ সহায়তা দিচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

এমএসএফ জানায়, দুটি ডোজ টিকার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কাভারেজ প্রয়োজন।
বর্তমানে এমএসএফ জামতলী ও হাকিমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ‘হসপিটাল অন দ্য হিল’, কুতুপালং হাসপাতাল এবং গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালসহ একাধিক কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সংস্থাটি ৩৫০ জন হামে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১০৩ জন জটিল অবস্থায় ছিলেন। পাশাপাশি ১০ দিনব্যাপী হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও সহায়তা করছে এমএসএফ।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর