শিরোনাম :
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল : বিভিন্ন মহলের শোক টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা ইংরেজি অলিম্পিয়াডে যুক্তরাজ্য হতে সমুদ্রকন্যা ফিরলেন মেডেল হাতে মহেশখালীর বন্যাকবলিত ৭০০ পরিবারকে সিপিজিসিবিএলের ত্রাণ সহায়তা সাতকানিয়ায় বন্যার্ত ৮৫০ মানুষকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাদ্রাসাভবনের ওপর পাহাড় ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত উখিয়ায় অতিবৃষ্টিতে মাটির দেয়াল ধসে দিনমজুর নিহত উখিয়ায় ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ফের পাহাড়ধস, গৃহবধূ নিহত উখিয়ায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, প্রস্তুত ৪৫ সাইক্লোন সেন্টার

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাহার ইকবালের ইন্তেকাল : বিভিন্ন মহলের শোক

নিউজ রুম / ১ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক :

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি, দৈনিক জনকণ্ঠ ও মানবজমিন পত্রিকার সাবেক স্টাফ রিপোর্টার আতাহার ইকবাল ইন্তেকাল করেছেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে প্রথমে কক্সবাজার শহরের আলফুয়াদ হাসপাতাল, ইউনিয়ন হাসপাতাল ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরতা চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার বিকেল ৩ টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত তার মৃতদেহ রাখা হয় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে। সেখানে প্রেসক্লাব সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সহ নানা সংগঠন তাকে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আ তাহার ইকবালের মৃত্যুতে কোরআনখানি ও মিলাদ বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
আসরের নামাজের পর কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ কমপ্লেক্স এর মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বৈল্লাপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ ‌ বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

মরহুম আতাহার ইকবাল ১৯৫৫ সালের ৩১ আগস্ট মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম ডা. আমান উল্লাহ, মাতা- মরহুমা মুশতারি বেগম সিদ্দিকী। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের কক্সবাজার প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি।

১৯৭৪ সালে পাক্ষিক তরঙ্গ সম্পাদনা করেন। ১৯৭৭ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় পাক্ষিক বারুদ। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক সাগরবাণী প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদনায়। দৈনিক জনকন্ঠের জন্মলগ্ন থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দৈনিক বাঁকখালী প্রকাশনা শুরু করেন। তিনি ছিলেন এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দৈনিক বাঁকখালীর নিয়মিত প্রকাশনা শুরু হয় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ২০০৭ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি উক্ত পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে দৈনিক মিছিল, দৈনিক পূর্বকোণ, নয়াবাংলা, দৈনিক খবর ও দৈনিক কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

আতাহার ইকবাল ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের রজত জয়ন্তী উৎসবে দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত একটি সিরিজ রিপোর্টের জন্য সেরা সাংবাদিকতার পুরস্কার লাভ করেন।

এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার পর থেকে অসংখ্য ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। তিনি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজারবাণী পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আতাহার ইকবাল জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী। বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভূক্ত গীতিকার ও সূরকার এবং কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার বেতার থেকে প্রচারিত ‘সাগর পাড়ের জীবন’ শীর্ষক আঞ্চলিক ভাষার ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।

তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগদান করেন এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কক্সবাজার জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত জাতীয় যুব সংস্থার কক্সবাজারস্থ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জেলা যুবদল ও বিএনপি সংগঠিত করার কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে ১৯৮০ সালে হিজবুল বাহারে করে ৪ দিনের সমুদ্র বিহারে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। বর্তমানে বিএনপি’র কালচারাল ফ্রন্ট জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতি গঠন করেন এবং সভাপতি হন। লবণ সংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গুলোতে লবণ চাষীদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকায় বেশ কয়েক বছর অহেতুক লবণ আমদানি বন্ধ থাকে। যার ফলে লবন চাষীরা মাঠ পর্যাযে লবণের ন্যায্য মূল্য পায়।

তিনি ২০০১ সালে লবণ চাষী সমিতির সভাপতি হিসেবে ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় সরকারিভাবে ১৫ দিনের ভারত সফরে যান এবং সেখানকার লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজতকরণ বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন। আতাহার ইকবাল উপ মহাদেশের প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মরহুম আবদুর রশিদ সিদ্দিকীর দৌহিত্র।

১৯৯১ সালে বিয়েও করেছেন মরহুম আবদুর রশিদ সিদ্দিকীর বড় ছেলে মরহুম মাশুক আহমদ ছিদ্দিকীর কন্যা ফেরদৌসী বেগম সিদ্দিকাকে। তিনি স্ব-পরিবারে কক্সবাজারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি ২০০৯ সালে কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ আয়োজিত ‘সিএসএস’ কৃতি সাংবাদিক সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর