শিরোনাম :
টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সবজির বাজারে অস্থিরতা ইংরেজি অলিম্পিয়াডে যুক্তরাজ্য হতে সমুদ্রকন্যা ফিরলেন মেডেল হাতে মহেশখালীর বন্যাকবলিত ৭০০ পরিবারকে সিপিজিসিবিএলের ত্রাণ সহায়তা সাতকানিয়ায় বন্যার্ত ৮৫০ মানুষকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাদ্রাসাভবনের ওপর পাহাড় ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত উখিয়ায় অতিবৃষ্টিতে মাটির দেয়াল ধসে দিনমজুর নিহত উখিয়ায় ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ফের পাহাড়ধস, গৃহবধূ নিহত উখিয়ায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, প্রস্তুত ৪৫ সাইক্লোন সেন্টার এক টানাভারি বর্ষণে চকরিয়া,মাতামূহুরী ও পেকুয়ায় পাহাড় ধসের আশঙ্কাঃসরানো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে

ইংরেজি অলিম্পিয়াডে যুক্তরাজ্য হতে সমুদ্রকন্যা ফিরলেন মেডেল হাতে

নিউজ রুম / ২ বার পড়ছে
আপলোড : সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

রহমান তারেক :

কক্সবাজারের ঢেউয়ের শব্দ যে কানে বেজে থাকে সারাক্ষণ, সেই কান হঠাৎ একদিন শুনল অন্য এক শব্দ -অক্সফোর্ডের পুরনো পাথুরে রাস্তায় সাইকেলের ঘণ্টি, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা ইতিহাসের নিঃশ্বাস। নবম শ্রেণির একটা মেয়ে, যার বেড়ে ওঠা সমুদ্রতীরের নোনা বাতাসে, হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটির আঙিনায়। চোখের সামনে শতাব্দীপ্রাচীন ভবন, হাতে বাংলাদেশের পতাকা, বুকে কক্সবাজারের নাম। এই দৃশ্যটাই বদলে দিয়েছে সুরাইয়া আলমের ভবিষ্যৎ ভাবনার মানচিত্র।
কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী কয়েক সপ্তাহ আগেও ছিলেন হাজারো স্কুলছাত্রীর একজন। এখন তিনি কক্সবাজারের নাম হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াড TeenEagle Global Olympiad-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তিনি, বিশ্বের ৭১টি দেশের শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশকে, কুইজ, স্পোকেন সহ তিনটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে ফিরেছেন একটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ মেডেল হাতে নিয়ে।
কিন্তু এই গল্প শুধু একটা প্রতিযোগিতা আর দুটো মেডেলের নয়। এই গল্প একটা মেয়ের, যাকে জন্মের সময় ডাক্তার বাঁচার আশা দেননি; একটা পরিবারের, যারা বাবা হারানোর পরও স্বপ্ন দেখা থামায়নি; আর একটা শহরের, যে প্রমাণ করল রাজধানী থেকে নয়, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় সমুদ্র শহর থেকেও।
কক্সবাজারের কথা উঠলেই যে ছবিটা সবার আগে চোখে ভাসে, তা হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পর্যটকের ভিড়, লবণের মাঠ আর শুঁটকির গন্ধ মাখা জীবনযাপন। এই শহর থেকে এক শিক্ষার্থী  একদিন অক্সফোর্ডের রাস্তায় হাঁটবে, বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের পতাকা তুলে ধরবে এমন স্বপ্ন এতদিন হয়তো অনেকের কাছেই ছিল অলীক। সুরাইয়া সেই ধারণাটাকেই ভেঙে দিয়েছেন নিজের হাতে।
ষষ্ঠ শ্রেণির এক সাধারণ দিনে শুরু:
গল্পটা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় সুরাইয়ার মনে ইংরেজি ভাষার প্রতি একটা টান তৈরি হয়। পাঠ্যবইয়ের পাতা উল্টেই তিনি থেমে থাকেননি- নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত বাড়তি সময় দিতে শুরু করেন। পরে ভর্তি হন ইংরেজি শেখার প্রতিষ্ঠান স্পিক আপ-এ, যেখানে স্পিকিং, ফ্লুয়েন্সি, গ্রামার আর যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করেছেন।
প্রায় তিন বছরের এই ধারাবাহিক প্রস্তুতি একদিনেই ফল দেয়নি। ধাপে ধাপে, প্রতিযোগিতার পর প্রতিযোগিতা পেরিয়ে তবেই তিনি পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে। এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের সমর্থনের পাশাপাশি বড় ভূমিকা রেখেছেন তার মেন্টর রাসেল আফিফ। যাঁর কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বারবার স্মরণ করেন সুরাইয়া।
আট দিনের যে সফর বদলে দিল দৃষ্টিভঙ্গি:
গত ২১ জুন যুক্তরাজ্যের মাটিতে পা রাখেন সুরাইয়া। আট দিনের এই সফর ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি আর আন্তর্জাতিক সংযোগের এক নতুন অভিজ্ঞতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকা, তাদের সংস্কৃতি ও চিন্তাভাবনা কাছ থেকে জানার সুযোগ, এই পুরো অভিজ্ঞতাটাই তার কাছে ছিল এক ধরনের চোখ খুলে দেওয়া শিক্ষা।
সুরাইয়া বলেন, “৭১টি দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকা, তাদের সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিন্তাভাবনা জানার সুযোগ আমার জীবনের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা। সেখানে গিয়ে বুঝেছি, পৃথিবী অনেক বড়, আর শেখার সুযোগেরও কোনো শেষ নেই।”
এই মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতাকেও নতুনভাবে যাচাই করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একটা কিশোরী মেয়ের কাছে এটা শুধু প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা ছিল না, ছিল নিজেকে বিশ্বের প্রেক্ষাপটে দেখার প্রথম সুযোগ।
ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটা:
অলিম্পিয়াডের ব্যস্ত সূচির ফাঁকে ফাঁকে সুরাইয়া ঘুরে দেখেছেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অক্সফোর্ড আর কেমব্রিজ—বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হয়েছে, ইতিহাস যেন এখানে থমকে নেই, বরং প্রতিটি ইটে বেঁচে আছে।
একটি বিশ্বখ্যাত জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল সবচেয়ে স্মরণীয়। প্রাচীন সভ্যতার সংগ্রহ, ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন আর বাস্তবধর্মী প্রদর্শনী দেখে তার মনে হয়েছে, যেন পুরো জাদুঘরটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে চোখের সামনে। টেমস নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক টাওয়ার ব্রিজের স্থাপত্যশৈলী আর লন্ডনের প্রাণচঞ্চল রাস্তাঘাটও তাকে মুগ্ধ করেছে সমানভাবে।
সুরাইয়ার ভাষায়, “এই সফর শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নয়; বরং বিশ্বমানের শিক্ষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার এক বিরল সুযোগ।”
অক্সফোর্ডের রাস্তায় জন্ম নিল নতুন স্বপ্ন:
কিন্তু সব কিছুর মধ্যে সুরাইয়াকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে অক্সফোর্ড শহরটাই। ছোটবেলা থেকে বইয়ের পাতায় পড়া নামটা যখন চোখের সামনে সত্যি হয়ে উঠল, তখনকার অনুভূতি বলে বোঝানো কঠিন।
সুরাইয়া বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বইয়ে অক্সফোর্ডের নাম পড়েছি। এবার নিজের চোখে সেই ঐতিহাসিক শহর দেখার সুযোগ হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন ভবন, শিক্ষার ঐতিহ্য এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”
এই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে জন্ম দিয়েছে একটা নতুন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “এই অল্প বয়সে এমন একটি বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র দেখার সুযোগ আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে একদিন আমিও এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। অক্সফোর্ড ভ্রমণ এখন সুরাইয়ার ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের ভিত্তি।
# যে শিক্ষা বই থেকে শেখা যায় না:
যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাও সুরাইয়ার মধ্যে নতুন কিছু ভাবনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। সেখানে শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর করা হয় না; বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণা, এক্সপেরিমেন্ট এবং নতুন কিছু শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।”
একটা বিষয় তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। “আমি দেখেছি, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সুপারশপ ও প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করছে। এতে তারা যেমন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তেমনি নিজের আয়ের একটি উৎসও তৈরি করছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশেও এমন সুযোগ আরও বাড়ানো উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে পারে।”
এই পর্যবেক্ষণ থেকেই বোঝা যায়, সুরাইয়ার ভ্রমণ শুধু বেড়ানো ছিল না—প্রতিটা মুহূর্তেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন শেখার উপকরণ। একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর চোখে এই পর্যবেক্ষণ সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটা গভীর প্রশ্ন—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি শুধু মুখস্থবিদ্যা আর পরীক্ষার নম্বরেই আটকে থাকবে, নাকি একদিন বাস্তব অভিজ্ঞতা আর আত্মনির্ভরতাকেও গুরুত্ব দেবে? সুরাইয়ার এই পর্যবেক্ষণ যেন কক্সবাজারের মতো শহরের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটা আয়না।
পতাকা হাতে এক গর্বের মুহূর্ত:
অলিম্পিয়াডের গ্লোবাল নাইটে ‘Quality Education’ বিষয়ে বক্তৃতা দেন সুরাইয়া। বাংলাদেশের পতাকা হাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে চিরকাল। এই আয়োজনেই তিনি অর্জন করেন একটি সিলভার ও একটি ব্রোঞ্জ মেডেল।
সুরাইয়া বলেন, “বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখন মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি শুধু নিজের নয়, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।” এই একটা লাইনেই বোঝা যায়, নবম শ্রেণির এই মেয়ের কাঁধে তখন চেপে বসেছিল একটা গোটা দেশের ভার—আর সেই ভার তিনি বয়েছেন মাথা উঁচু করে।
স্বপ্ন এখানেই থামছে না:
সুরাইয়ার লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চাই। নিজেকে একজন সফল ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগাতে চাই। বিশেষ করে আমার প্রিয় কক্সবাজারের নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করতে চাই।”
মায়ের চোখে এক অলৌকিক লড়াইয়ের গল্প:
এই পুরো যাত্রায় সবচেয়ে আবেগাপ্লুত মানুষটি সুরাইয়ার মা আনজুমান আলম। মেয়ের এই অর্জনের কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে মিশে যায় গর্ব আর চোখের জল। কারণ এই গল্পের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, “তোমার মতো সন্তানের মা হিসেবে আমি সবসময় গর্বিত। তোমার জন্মের সময় ডাক্তার বলেছিলেন, তুমি হয়তো অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে পারবে না। কিন্তু তুমি সিংহের মতো লড়াই করেছ। আজ তুমি যুক্তরাজ্যে গিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছ, পুরস্কার নিয়ে ফিরেছ। সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।”
জন্মের সেই মুহূর্তের কথা মনে করেই হয়তো তিনি যোগ করেন বাবার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “তোমার বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি গর্ব তিনিই করতেন। আল্লাহ যেন তোমার সব স্বপ্ন পূরণ করেন।” একটা পরিবারের ভাঙা-গড়ার গল্প, একটা মায়ের একার লড়াই, আর তার মধ্যে থেকে উঠে আসা একটা মেয়ের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-এই তিনটে সুতো মিলিয়েই তৈরি হয়েছে সুরাইয়ার আসল গল্প, যা মেডেলের চকচকে ঝলকের আড়ালে অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়।
সুরাইয়ার মেন্টর রাসেল আফিফ বলেন, “সুরাইয়ার মেধা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের প্রতি বিশ্বাস ছিল বলেই সে এত দূর এসেছে। আমি শুধু পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। কক্সবাজারে আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারবে।”
আয়োজক ও বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন:
হেরিটেজ স্কুল, নারায়ণগঞ্জের কো-অর্ডিনেটর ও এই অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে, এবং সুরাইয়ার অংশগ্রহণ ও অর্জন ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফুন্নেছা বেগমও গর্ব লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, “সুরাইয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী হিসেবেও অত্যন্ত ভালো।  তার এই অর্জন শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের নয়, পুরো কক্সবাজারের গর্ব। আমরা বিশ্বাস করি, সে ভবিষ্যতেও দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।”
সমুদ্র থেকে স্বপ্নের পথে:
কক্সবাজারের সমুদ্রপাড়ে বড় হওয়া সুরাইয়া সমুদ্র শহরের অঢেল মেধাবীকে এপথ দেখিয়েছেন। সুরাইয়া দেখিয়েছেন, বড় স্বপ্ন দেখতে রাজধানীতে জন্ম নেওয়া লাগে না, লাগে না নামীদামি স্কুল কিংবা প্রাচুর্য। যা লাগে, তা হলো অদম্য ইচ্ছাশক্তি, ধারাবাহিক পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা আর নিজের প্রতি একটা অটুট বিশ্বাস।
সেই বিশ্বাসই সুরাইয়াকে নিয়ে গেছে কক্সবাজারের সৈকত থেকে লন্ডনে, আর অক্সফোর্ডের প্রাচীন রাস্তায় দাঁড়িয়ে জন্ম দিয়েছে আরও একটা নতুন স্বপ্নের। একদিন বিশ্বের সেরা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে, অর্জিত জ্ঞান নিয়ে ফিরে আসার, নিজের মাটির জন্য কিছু করার।
সুরাইয়ার এই পথে হয়তো একদিন কক্সবাজারের আরও অনেক সুরাইয়া নিজেদের স্বপ্নের দিকে হাঁটা শুরু করবে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর