শিরোনাম :
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাদ্রাসাভবনের ওপর পাহাড় ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত উখিয়ায় অতিবৃষ্টিতে মাটির দেয়াল ধসে দিনমজুর নিহত উখিয়ায় ড্রামে লুকানো ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কক্সবাজারে ফের পাহাড়ধস, গৃহবধূ নিহত উখিয়ায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, প্রস্তুত ৪৫ সাইক্লোন সেন্টার এক টানাভারি বর্ষণে চকরিয়া,মাতামূহুরী ও পেকুয়ায় পাহাড় ধসের আশঙ্কাঃসরানো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ ৯ জনের মৃত্যু সোনাদিয়ায় স্থানীয় সাংসদ ও স্বজনরা গাছ কেটে চিংড়ি প্রকল্প তৈরি করছে…হামিদ আযাদ পিরিয়ডবান্ধব বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে কক্সবাজারে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবস পালিত কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করুন: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা

নিউজ রুম / ২৭ বার পড়ছে
আপলোড : শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

::জাহাঙ্গীর আলম ::

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফর নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একটি বিষয় অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে—তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেননি।
প্রথম দর্শনে বিষয়টি সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দায়িত্ব পালন করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকটের ভার বহন করছে দেশটি। কিন্তু একই সঙ্গে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরকে বিভিন্ন পক্ষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল সফরটিকে নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ পেত। এমনও ধারণা তৈরি হতে পারত যে দীর্ঘমেয়াদে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। যদিও বাস্তবে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট—রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই এবং তাদের নিজ ভূখণ্ডে প্রত্যাবাসনই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।
এটিও সত্য যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখন শুধু মানবিক সংকটের প্রতীক নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভূরাজনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। অনেক সময় কোনো কাজ করার চেয়ে কোনো কাজ না করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে রোহিঙ্গাদের প্রতি উদাসীনতা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সম্পদ, জনসংখ্যার চাপ এবং নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশটি লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও এ জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতা ও কৌশলগত চিন্তাও গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজার সফরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই সেই কৌশলগত বাস্তববোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা, যাতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের কার্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রনায়কের সাফল্য অনেক সময় তাঁর নেওয়া পদক্ষেপে যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি প্রকাশ পায় কোন পদক্ষেপটি তিনি নেননি, তার মধ্যেও। কক্সবাজার সফরের এই দিকটি তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক অবস্থানের আলোকে বিবেচনার দাবি রাখে।

লেখক: জাহাঙ্গীর আলম, উন্নয়ন কর্মী।

jahangir81.cox@gmail.com


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর