শিরোনাম :
ওসি প্রদীপের আক্রোশের শিকার সাংবাদিক ফরিদুলের ৬ মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় অসন্তোষ সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ: সেন্টমার্টিনকে হারিয়ে সোনাদিয়ার রোমাঞ্চকর জয় পর্যটন বিকাশে নিরাপত্তা অন্যতম প্রধান শর্ত -ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রধান পর্যটন নগরীতে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মাল্টিপারপাস পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন মিয়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট সহ ১১ পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড কক্সবাজার বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ কক্সবাজারে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের মতবিনিময় রামুতে কৃষিপণ্য মেলা টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী ২৮ জন উদ্ধার

দুর্নীতির কারণেই নিজের কোম্পানির এসআরকে হত্যা

নিউজ রুম / ৯০ বার পড়ছে
আপলোড : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া:
এরশাদ আলী (৩২)। কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার মো.সাফিকুল ইসলামের ছেলে। গত কয়েক বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি হেলথ কেয়ারে যোগদেন এসআর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে। একই কোম্পানিতে এমআর (মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদে যোগদেন ঘাতক আশিক বিল্লাহ সুমন (৩৫)।
এই আশিক বিল্লাহ সুমন কোম্পানির সেলস বাড়ানোর জন্য এবং নিজে কোম্পানির থেকে বাড়তি সুবিধা নেয়ার জন্য অসদুপায় অবলম্বন করতে থাকে। এই বিষয়টি নজরে আসে এসআর এরশাদ আলীর। তিনি এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন আশিক বিল্লাহকে। কিন্তু আশিক বিল্লাহ কানে নেয় নিই সেই কথা। তাই উর্ধ্বতন মহলকে তার অনিয়মের বিষয়টি জানাবেন বলে জানান এসআর এরশাদ আলী। এই অনিময় ধরিয়ে দেয়ায় কাল হলো এরশাদ আলীর। জীবন দিতে হলো নিজ কোম্পানির প্রতিনিধির হাতে।
রবিবার (১৬জুলাই) বিকাল ৫টায় চকরিয়া থানার কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথাগুলো বলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো.জসীম উদ্দিন চৌধুরী। এসময় সাথে ছিলেন চকরিয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাবেদ মাহমুদ, চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) রাজিব সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নিহত এরশাদ আলী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার সুতাইল এলাকায় মো.সাফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের এসআর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদে কর্মরত ছিলেন।
ঘাতক আশিক বিল্লাহ সুমন (৩৫) ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার ছনধরা এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনিও একই কোম্পানিতে এমআর(মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদে কর্মরত আছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো.জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এম্আর আশিক বিল্লাহ চকরিয়া পৌরশহরের আল-রাজি হাসপাতালের জন্য ১৯ হাজার টাকার ভাউচার করে প্রোডাক্ট নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ওই প্রোডাক্টটটি চকরিয়ার বদরখালীর দুটি ফার্মেসীতে দিয়ে দেয়। কিন্তু এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করেন এসআর এরশাদ আলী। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানান এসআর এরশাদ আলী। এতে ক্ষিপ্ত হন এমআর আশিক বিল্লাহ। এর প্রতিশোধ নিতে তিনি এসআর এরশাদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি চকরিয়া পৌরশহরের মসজিদ মার্কেটের সামনের দোকান থেকে ৫০ টাকা দিয়ে একটি ধারালো ছুরি কিনে নেন। এদিন রাত ১০টার দিকে এসআর এরশাদ আলীকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠে আসতে বলেন। এমআর আশিক বিল্লাহর কথামতো এরশাদ আলী ওই স্থানে চলে যান। পরে এসআর এরশাদ আলী একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান আশিক বিল্লাহ। এসময় দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আশিক বিল্লাহ পকেট থেকে ছুরি বের করে এরশাদ আলীর গলায় চালিয়ে দেয়। এসময় এরশাদ চিৎকরা দিয়ে একটি দূওে গিয়ে পড়ে যায়। পরে এম্আর আশিক বিল্লাহ দৌঁড়ে গিয়ে পিছন থেকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে এরশাদ আলী গলায় আবারও ছুরি চালায়। ঘটনাস্থলে মারা যায় এসআর এরশাদ আলী। পরে ঘাতক আশিক বিল্লাহ হাসপাতালের দেয়াল টপকিয়ে হাসপাতালের পাশের্^ তার বাসায় গিয়ে কাপড় পাল্টায়।
তিনি বলেন, হাসপাতালের মাঠে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন চকরিয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে খুনিকে আটক করতে অভিযানে নামে পুলিশ, র‌্যাব-১৫সহ অন্যান্য বাহিনী লোকজন। এরমধ্যে হাসপাতালে থাকা ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামীকে সনাক্ত করে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পর ঘাতক আশিক ঘটনাস্তলে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি নিতে আসলে তাকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ধারালো ছুরি, নগদ ১৯ হাজার ২’শ টাকা এবং মোবাইল জব্দ করে।
এএসপি মো.জসীম উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, পরে ঘাতক আশিককে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে খুনের কথা অস্বীকার করে। পুলিশ যখন ভিডিও ফুটেজ দেখায় তিনি সব স্বীকার করেন এবং তিনি নিজেই এই খুন করেছেন বলেও জানান। তারপরও এই ঘটনার সাথে আর কেউ আছে কিনা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাবেদ মাহমুদ বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদও হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ভিকটিমের কোন আত্মীয়-স্বজন এখনও থানায় আসেনি। তার আত্মীয়-স্বজন আসলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তাদের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেলে দ্রুত মামলা এন্ট্রি করা হবে।###


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর