মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া:
দেখে মনে হতে পারে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি করছে। বিষয়টি তেমন না। তারা সবাই দিনমজুর। সারাদিন পরিশ্রম শেষে নিজেদের উপার্জনের টাকা সবাই মিলে ভাগাভাগি করে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কঠোর পরিশ্রম। পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এসব দিনমজুর। রাতে বাড়ি ফিরে পরিবার-পরিজনদের দেখলেই ভুলে যান সারাদিনের পরিশ্রম।
সরজমিন খবর নিয়ে জানা গেছে, পৌরশহরের বাসটার্মিনাল, জনতা মার্কেট, কাঁচাবাজর সড়ক, সরকারি আলক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, মগবাজার, বাটাখালিতে কাঁচামাল, মুদি, মশলার আরতসহ বিভিন্ন ধরনের আরত রয়েছে। এসব আরতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁচামালসহ নানা পণ্য নিয়ে আসে ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্য লোড-আনলোডের কাজ করে দুইশ’র অধিক দিনমজুর।
এই দিনমজুররা সারাদিন মালামাল লোড-আনলোড করে একজন মাঝির কাছে টাকা জমা রাখে। এই জমা রাখা টাকা দিন শেষে সমানভাবে ভাগাভাগি করে দিনমজুররা।
দিনমজুরদের মাঝি মোজাম্মেল বলেন, পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় আড়ত রয়েছে। এসব আরতের মালিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসে। এসব পণ্য লোড-আনলোডের কাজ করে দুই শতাধিক দিনমজুর। প্রতিটি এলাকায় দিনমজুরদের একজন করে মাঝি থাকে। ওই মাঝির কাছে দিনমজুররা পন্য উঠা-নামা বাবদ পাওয়া টাকা মাঝির কাছে জমা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দিন শেষে রাতে বাড়ি ফেরার আগে এসব টাকা সবাই সমান ভাবে ভাগ করি। এখানে মাঝি-দিনমজুর সবাই সমান সমান টাকা বরাদ্দ করি। প্রতিজন দিনমজুর দিন শেষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে।
পৌরশহরের কাঁচাবাজার সড়কের ব্যবসায়ী মো.জামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, দিনমজুররা খুব ঐক্যবদ্ধ। তাদের একজন করে মাঝি থাকে। ওই মাঝির নেতৃত্বে তারা প্রতিদিন কাজ করে। মাঝি যেভাবে বলে সেভাবেই তারা কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মালামাল নিয়ে আসি। এসব মালামাল নামানোর জন্য ট্রাক সিস্টেমে টাকা দিই। ওই টাকা দিনমজুররা তাদের মাঝির কাছে জমা রাখে। মুলত সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তারা মালামাল উঠা-নামার কাজ করে। বাড়ি যাওয়ার সময় এসব টাকা সমানভাবে বন্টন করে দেন মাঝিরা।###