শিরোনাম :
তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে ঈদ উপহার উখিয়া উপজেলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা পেকুয়ায় মানবিক সহায়তাঃ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এক হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১৫টি স্থানীয় সিবিওদের মাঝে ১৮, ৯১,৩০৮ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ

বিজয় দিবসে কক্সবাজারে পর্যটকে ভরপুর

নিউজ রুম / ১৪৬ বার পড়ছে
আপলোড : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

মহান বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সড়ক পথ ও আকাশ পথের পর রেলপথ যুক্ত হওয়ায় পর্যটনে খুলেছে নতুন দুয়ার। সবমিলিয়ে প্রাণ ফিরে এসেছে পর্যটনে।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও মহান বিজয় দিবসের কারণে বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। অনেকেই দীর্ঘদিন পর শুধুমাত্র ট্রেনের কারণেই কক্সবাজার এসেছেন। আগত পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সহ নানা পর্যটন স্পট ঘুরে বেড়াচ্ছে। শীতের হিমেল হওয়ার সাথে সাগরের গর্জন, আর লোনা জলে গা ভাসিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দিন কাটাচ্ছেন পর্যটকরা।
সৈকতের লাবনী পয়েন্টে কথা হয় রংপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নাহিদা ও রহিমের সাথে। তারা বলেন, আমরা রংপুর থেকে ঢাকায়, ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার এসেছি পুরো পরিবার নিয়ে। ট্রেন জার্নিটা অনেক সুন্দর ছিল। নতুন ট্রেন ভালো লেগেছে খুব। শীতের এই সময়ে সৈকতে খুব ভালই লাগছে।
খুলনার রূপসা থেকে আসা পর্যটক ফারিয়া আফরিন বলেন, প্রথম কক্সবাজার আসলাম স্বামীকে নিয়ে, শীতের এই মৌসুমে সৈকতে বসেই দারুন উপভোগ করছি প্রকৃতিকে।
মেহেরপুর থেকে আসা নাদিয়া, সাদিয়া বলেন, করোনার কারণে বেশ কিছুদিন ঘর থেকে বের হতে পারেনি। অনেকদিন পর কক্সবাজারের সাথে ট্রেন চালু হয় পুরো পরিবার নিয়ে এসেছি এখানে। তবে ট্রেনের টিকেট পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে বলে জানান তারা।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে পুরো পরিবারসহ অনেক বন্ধু-বান্ধব মিলে আমরা ট্রেনে এসেছি কক্সবাজার। প্রথমবার ট্রেনে করে কক্সবাজার আসার মজাই ছিল অন্যরকম। পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসে অনেক ভালো সময় কাটাচ্ছি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা নওশীন বলেন, অনেকদিন পর কক্সবাজার আসলাম অনেক ভালো লাগছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে আসা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার আমাদের খুব কাছে হলেও আসা হয়নি অনেকদিন। এবার পরিবার পরিজন নিয়ে আসলাম ভালোই দিন কাটছে এখানে।
কক্সবাজার রেস্তোরা মালিক সমুদ্রের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, অনেকদিন পরে আমাদের রেস্তোরাঁ গুলোতে ভালো বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে হরতাল ও অবরোএধর কারণে আমাদের ব্যবসা মন্দ যাচ্ছিল। অনেকে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু বিজয় দিবসে সবাই খুলে ভালো ব্যবসা করেছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা খুব খুশি।
কক্সবাজার সৈকত ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন দুলাল বলেন, আমাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। আমরা খুব খুশি।
কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী বলেন, এবারে ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আমাদের মানের হোটেলগুলো তো আর রুম ভাড়া বাড়ানো কমানোর কোন সুযোগ নেই। তাই আমাদের সবসময় রেট একটাই । এবারে আমাদের ব্যবসায়ীরা খুশি পর্যটক আশায়।
কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমরা খুব খুশি পর্যটক আশায়। আমরা চাই সারা বছর যেন পর্যটক এভাবে থাকে।
আজকে পর্যটক এ ভরপুর কক্সবাজার এই দৃশ্য যেন সারা বছর থাকে।
কক্সবাজার নাগরিক পরিষদের সভাপতি আ,ন,ম, হেলাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারের মানুষের স্বপ্ন রেললাইন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সে রেললাইন দিয়ে কক্সবাজারের সাথে রেল চালু করে দিয়েছে। এটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য বিরাট একটি সুযোগ। শুধুমাত্র রেল পথ চালু হওয়ার কারণে পর্যটকের হার বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু রেলের টিকেট যেভাবে কালোবাজারে চলে গেছে , তা পর্যটনের জন্য একটি দুঃসংবাদ। সরকারকে কালো বাজার মুক্ত করতে হবে রেলের টিকিট। সাধারণ পর্যটকরা যাতে পর্যাপ্ত টিকেট পায়  সরকারকেই তার ব্যবস্থা  করতে হবে।
পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও, ইনানী, হিমছড়ি, রামু, সেন্টমার্টিন সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক দেবাশীষ বলেন, বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কারণে পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে এলাম কক্সবাজারে। তবে আগের চেয়ে হোটেল ভাড়া আর খাবারের দাম বেশি বলে মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, পর্যটকদের যাতে কোন সমস্যা না হয়, কোন প্রকার হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য সার্বক্ষণিক জেলা প্রশাসনের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা দিতে প্রস্তুত।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অ্যাডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, কক্সবাজার আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার রেলস্টেশনে ও আমাদের টিম রয়েছে। রেল স্টেশন থেকে পর্যটকরা কক্সবাজার সৈকতে আসা পর্যন্ত যাতে সমস্যা না হয় সেখানে বিভিন্ন স্তরের টিম কাজ করে যাচ্ছে।
সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তায় জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আমাদের সদস্যরা কাজ করছে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর