বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজারে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সাবেক কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কর্মী নিপীড়নের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের ন্যায্য পাওনা ও বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের কক্সবাজার অঞ্চলের সাবেক আঞ্চলিক কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. আশেকুল ইসলাম।
এসময় সাবেক কর্মীরা জানান, কোস্ট ফাউন্ডেশন বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচিত ও স্বনামধন্য একটি এনজিও হলেও, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে চলছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। কর্মীরা নির্যাতিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত। অনেক কর্মীকে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করে তাদের ন্যায্য পাওনা আত্মসাৎ করার নজিরও রয়েছে।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর স্বেচ্ছাচারিতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নীরবতার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী লিপ্সা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে, যা পূর্বে প্রমাণিত হয়েছে।
তারা আরও জানান, নির্বাহী পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতায় বিরক্ত ও হতাশ হয়ে নির্বাহী কমিটির সভাপতি ড. তোফায়েল আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। তার নির্দেশ অমান্য করা, নির্বাহী কমিটির বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার অনুমোদন ছাড়াই খরচ করার কারণে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক কর্মীরা তাদের কিছু দাবি তুলে ধরেন। তাহলো- কর্মীদের ন্যায্য পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ও তাদের জামিনদারদের চেক, স্টাম্প ও মূল সনদপত্র ফেরত দিতে হবে। পূর্বে যাদেরকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদেরকে পুনর্বহাল করতে হবে অথবা তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও স্টাফ সিকিউরিটি ফান্ড ফেরত দিতে হবে। কোস্ট ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। পদত্যাগকারী কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে। একটি নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের জন্য কোস্ট ফাউন্ডেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে। নারী কর্মীদের নিরাপত্তা প্রদান করে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মূল সনদপত্র ফেরত না দেওয়ার কারণে কর্মীরা অন্য কোথাও চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছেন না; এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চকরিয়ার সাবেক এলাকা ব্যবস্থাপক আবু ছালেক, পেকুয়ার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সুজন কান্তি দে, খুটাখালীর সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক এসএম শফিউল কাদের, সোনারপাড়ার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সরওয়ার কামাল, মরিচ্যা শাখার ব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম, মাতারবাড়ি শাখার মাঠকর্মী শাহনাজ পারভীন, মরিচ্যা শাখার সাবেক মাঠকর্মী মো. তারেক, কামরুল ইসলাম কায়েস, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান, পেকুয়া শাখার সাবেক মাঠকর্মী মোরশেদ আলম সেলিম, মরিচ্যা শাখার সাবেক শাখা হিসাব রক্ষক মো. ইউনুস কুতুবী, সাবেক সাপোর্ট স্টাফ মো. ছলিম উল্লাহ, সদর-১ শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আবুল আবছার ও রামু শাখার সাবেক মাঠকর্মী কামরুন নেছা সেবু প্রমুখ।
সাবেক কর্মীরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেছেন এবং তাদের দাবিসমূহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।