শিরোনাম :
ইফতার মাহফিল ও চিকিৎসক সমাবেশ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার হতে পারে ক্রীড়া সম্ভাবনার তীর্থ কেন্দ্র -এমপি কাজল লেইসার হোটেলারস অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জোনের ইফতার ও মিলনমেলা বাঁকখালী নদীর তীর ফের দখল ফলাফল পুনঃগণনার দাবিতে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজারে জামায়াতকে হারিয়ে ৪টি আসনেই বিএনপির জয় প্লাস্টিক দূষণ .অন্তর্ভুক্তিমূলক বিদ্যালয় গঠন নিয়ে বির্তক প্রতিযোগিতা কক্সবাজারে আরডিআরএস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে উখিয়ার যুবলীগ নেতা যৌথ বাহিনীর হাতে আটক কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বিডিআরসিএস চেয়ারম্যান

আকাশচুম্বি উৎসকর বাতিলে ভূমিকা রাখায় প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ

নিউজ রুম / ৫২ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

কক্সবাজারে ভূমি নিবন্ধনে চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আকাশচুম্বী উৎস কর বাতিলে ভূমিকা রাখায় নিজ জেলা কক্সবাজারে প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী  সালাহ উদ্দিন আহমেদ। গত দুইদিন থেকে পুরো জেলায় আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে উৎস কর বাতিলের বিষয়টি। এ নিয়ে জেলাবাসী দারুণ খুশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫ ২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কক্সবাজারের ১৮৭ সি জমির মৌজার মধ্যে ৮১ টি মৌজায় হঠাৎ করে আকাশচুম্বি উৎস কর ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে এই উৎস কর আদায়ের জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মিজান জানান, ৮১টি মৌজায় এক শতক কৃষি জমি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য উৎস কর ধার্য করা হয় ২৫ হাজার টাকা, ১ শতক আবাসিক জমির জন্য ৫০ হাজার টাকা ও এক শতক বাণিজ্যিক জমির জন্য এক লাখ টাকা। অথচএমন জমিও আছে যেখানে এক শতক জমির সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৬১০ টাকা।
অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ এক জুলাই থেকে এটি কার্যকর করা হয়। দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, এর আদেশ কার্যকরের পর থেকে কক্সবাজার জেলায়  হঠাৎ করে জমি ক্রয় বিক্রয় দলিল নিবন্ধন স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর দলিল লেখক সমতি কক্সবাজার জেলা শাখা বিভিন্ন স্থানে আবেদন সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, অর্থবছরের শুরুতে হঠাৎ করে এই আকাশচুম্বী উৎসর ঘোষণার পর আমরা নানাভাবে চেষ্টা করি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য । কিন্তু আমরা কোনভাবেই সরকারের উচ্চ মহলে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তাই আমরা কোন উপায় না দেখে, আমাদের সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মিজান সহ একটি প্রতিনিধি দল গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজারের কৃতি সন্তান সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন।
দলিল লেখক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মিজান বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ আমাদের কিছু দিক নির্দেশনা দেন এবং তিনি নিজের মতো করে নিয়ে ‌সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টা অবহিত করেন।
এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৫ সেপ্টেম্বর ২৬৯ নাম্বার এস আর ও এর মাধ্যমে সংশোধিত করে আকাশচুম্বি উৎস কর কক্সবাজার জেলার ৮১ টি মৌজায় বাতিল করে।
আকাশচুম্বী উৎসকর বাতিলের খবরটি দ্রুত কক্সবাজারের সব উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন কক্সবাজার ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
কক্সবাজার ভূমি নিবন্ধনে আকাশচন্দ্রী উৎস কর বাতিলে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ কে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দলিল লেখক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখা বুধবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বাসীর পক্ষ থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
কক্সবাজারের রামুর মন্ডল পাড়ার বাসিন্দা জাফর আলম মন্ডল বলেন, এই অতিরিক্ত উৎস কর এর কারণে অনেক প্রয়োজন হওয়ার পরেও জমি বিক্রি করতে পারেনি। আজ এই ঘোষণা শোনার পর অনেক ভালো লাগছে।
কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ঘোনার পাড়ায় এলাকার বাসিন্দা রহমাত উল্লাহ বলেন, গত দুই মাস ধরে কিছু জমি বিক্রি করার জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। জমি বিক্রি করে মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, শুধুমাত্র অতিরিক্ত উৎস করের জন্য আমার মেয়ের বিয়ে পিছিয়ে গেছে, আজ শুনেছি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ এই বড় কাজটি করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। উনার জন্য অনেক দোয়া করছি। এলাকার জন্য কাজ করে এমন মানুষ দিন দিন কমে যাচ্ছে। তার মধ্যে সালাহ উদ্দিন সাহেবের এলাকার জন্য এই কাজ করার খবরটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নুর বলেন, আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য কিছু জমি বিক্রি করতে গত তিন মাস ধরে চেষ্টা করছি, অতিরিক্ত উৎস করের জন্য জমি বিক্রি করতে পারেনি। আমাদের সাবেক মন্ত্রী সাহেব নাকি, এই অতিরিক্ত উৎস কর বাতিল করার ব্যবস্থা করেছে। এ খবর জানার পর শুধু সালাহ উদ্দিন সাহেবের জন্য দোয়া করছি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে। আমার মত আরো অনেক মানুষ সালাহ উদ্দিন সাহেবের জন্য দোয়া করতেছে আকাশচুম্বি উৎসব কর থেকে মুক্তি পাওয়ার কারণে।
গত দুইদিন ধরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারের চায়ের দোকান ও শহরের বড় আড্ডা গুলোতে আলোচনার প্রধান বিষয় আকাশচুম্বী উৎস কর বাতিলের বিষয়টি। সবার মুখে মুখে এই উৎস কর বাতিলের খবর আর বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ এর প্রশংসা। এটার সাথে সাথে আড্ডাগুলোতে তিনি আগে যেসব কাজ করেছিলেন এলাকার উন্নয়নে সে বিষয়গুলো ফিরে আসছে। তার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে গত দুদিন থেকে জেলার সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।
এ নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি এই সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। তাদেরকে বুঝিয়েছি মানুষের উপর এটা বোঝা। এতে মানুষ কষ্ট পাবে। সংশ্লিষ্টরা সেটি বুঝতে পেরেছেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন,আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। এলাকার জন্য কাজ করার চেষ্টা করি সব সময়। যখন সুযোগ পায় এলাকার জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। মানুষের জন্য কাজ করতে পারার আনন্দ অন্যরকম। তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর