শিরোনাম :
জনবল নিয়োগ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ভোলায় মানববন্ধন: প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের দাবি Speakers’ demands at the World Environment Day 2026 human chain. Save water bodies, prevent groundwater depletion কক্সবাজারে পাতলী খাল পরিদর্শন করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি কক্সবাজারের মহেশখালীর মানুষের মুখে হাসি ফুটালো আইএসডিই বাংলাদেশ সড়কের আশপাশে পশুর হাট বসলে আইনি ব্যবস্থা -এমপি কাজল চকরিয়ায় বি.এম চর ইউনিয়নে ১৫শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর এর স্থায়ী শেল্টার নির্মাণ জনমতের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য আটক হামের তীব্র ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী; মাঠে এমএসএফ

আট বছর পরও অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নিউজ রুম / ৮০ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার:

রোহিঙ্গা সংকটের অষ্টম বছরে এসে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।’

রোববার (৫ অক্টোবর) কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার অষ্টম বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একশনএইড বাংলাদেশের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত আট বছর ধরে সরকার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করছে। গত এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুইবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও তহবিল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আয়োজনে একশনএইডের আট বছরের রোহিঙ্গা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

দুই পর্বের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত আরআরআরসি (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা, ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার অফিসের সহকারী প্রতিনিধি (প্রোটেকশন) ডেভিড ওয়েলিন, জ্যেষ্ঠ সুরক্ষা কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েলা ভার্জিনিয়া নাতাসসিয়া জ্বলিনো, আইএসসিজি–এর প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর ডেভিড বাগডেন, ইউএন উইমেনের কক্সবাজার দপ্তরের প্রধান সিলজা রাজান্ডার, ডব্লিউএফপি–এর কক্সবাজার প্রোগ্রাম এরিয়া অফিস প্রধান জুয়ান কার্লোস মার্টিনেজ ব্যান্ডেরা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিপিজে–এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহরিয়ার সাদাত, এবং রোহিঙ্গা অ্যাকশন নর্থ ইস্ট থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত কোচ জেসমিন আক্তার।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তায় অবদান রাখায় ছয়জনকে দেওয়া হয় ‘বিকন অব হোপ অ্যাওয়ার্ড’। তাঁরা হলেন মাউং সোলাইমান শাহ, মোহাম্মাদ ইদ্রিশ, কাজী মো. শোয়েব আমরান, মো. আজাদ মোরাল, জেসমিন প্রেমা ও উম্মে হাফসা।

অনুষ্ঠানে একশনএইডের প্রামাণ্যচিত্র, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক নাটক ‘হত্তে থামিবো’ এবং ক্যাম্পের আদলে নির্মিত প্রদর্শনী ‘ক্যাম্প হোপ’ প্রদর্শিত হয়।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কক্সবাজার এনজিও প্ল্যাটফর্মের কো-অর্ডিনেটর সুকর্ণা আব্দুল্লাহ এবং আরডব্লিউ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া সুলতানা।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘মানবিক সহায়তায় কোনো আপস করা যাবে না। রোহিঙ্গাদের কষ্ট উপেক্ষা করা যায় না। তাঁদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তা বিশ্বকে মনে রাখতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এখন দরকার একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান, যেখানে সব সেক্টরকে একত্র করে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করা সম্ভব হবে।’


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর