শিরোনাম :
তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে ঈদ উপহার উখিয়া উপজেলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা পেকুয়ায় মানবিক সহায়তাঃ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এক হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১৫টি স্থানীয় সিবিওদের মাঝে ১৮, ৯১,৩০৮ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ

চকরিয়ায় মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে শতবর্ষী মুন্সী পুকুর

নিউজ রুম / ১২৫ বার পড়ছে
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া..
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার শতবর্ষী মুন্সী পুকুর নামের একটি বৃহত্তর পুকুর ভরাট চলছে দিনে দুপুরে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুজিবুল হকের নেতৃত্বে চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুশ শরফ সড়কের চেয়ারম্যানপাড়া (মুন্সীপাড়া) এলাকায় মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে কাউন্সিলর মুজিবুল হকের দাবি, এই পুকুর তাঁর পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি।
স্থানীয় প্রবীন লোকজনের অভিযোগ, শতবছর আগে খনন করা হয়েছিল এই পুকুরটি। প্রায় এক একর ১৬ শতাংশ জায়গায় খনন করে তৈরি করা পুকুরটি স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। এই পুকুর কাউন্সিলরের পৈত্রিক সম্পত্তি হলে এলাকাবাসী জানার কথা।
এলাকাবাসীর বলেন, চকরিয়া উপজেলা পৌরসভার চিরিঙ্গা সোসাইটিতে কোন অগ্নিকাÐের ঘটনা ঘটলে আগুন নেভাতে এই পুকুরটি একমাত্র ভরসা ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসীর কাছে। পুকুরটি বর্তমানে কৌশলে মাটি ফেলে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব। ইতোমধ্যে নামার চিরিঙ্গা চেয়ারম্যানপাড়া সড়কের পাশ দিয়ে মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাটকাজ শুরু করা হয়েছে।
যদিও পৌর কাউন্সিলরের দাবি, পুকুর ভরাট নয়, সড়ক দেবে যাওয়া ঠেকাতে মাটি ফেলা হয়েছে।
এদিকে, শতবছরের এ পুকুরটি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে দেখে চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় চেয়ারম্যানপাড়া, মুন্সিপাড়া, হিন্দুপাড়াসহ আশপাশ এলাকার হাজারো পরিবারের লোকজনের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে পুকুর ভরাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা মৃত আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বাবু মিয়ার ছেলে আনোয়ারুল মোহসীন বাদী হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে আনোয়ারুল মোহসীনের দাবি, শতবছর আগে বাবা-দাদারা চকরিয়া পৌরসভার মুন্সিপাড়াসহ আশপাশ এলাকার হাজারো পরিবারের নিত্যব্যবহার্য কাজের জন্য নিজস্ব জমিতে পুকুরটি খনন করেন। এরপর থেকে বংশ পরস্পরায় স্থানীয় পরিবারগুলো পুকুরটি ব্যবহার করে আসছেন। এমনকি এলাকার কোন বসতবাড়ি অথবা পাশের চিরিঙ্গা সোসাইটির বাণিজ্যিক শহরের মার্কেটে আগুন লাগলে তা নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস এই পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকেন। অথচ এখন পুকুরটি ভরাটের মাধ্যমে শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে।
চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) মুজিবুল হক মুজিবের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালেও এই পুকুরটি ভরাটের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ওয়ালিদ মিল্টন।
ওয়ালিদ মিল্টন বলেন, ‘মুন্সীপুকুর’ আমাদের এলাকার শতবছরের পুরানো একটি জলাধার। কিছু দিন পরপর মাটি ফেলে ভরাটের মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিলর পুকুরটি দখলে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভূমি আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে-‘কোন জমি বা পুকুর জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।’ করতে হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু তা না করে শতবছরের পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পুকুর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব।
তিনি জানান, কয়েকমাস পর বর্ষা শুরু হবে। তাই ভারি বর্ষণের সময় পুকুর পাড়ের সড়কটি দেবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে। আর এই পুকুরটির সিংহভাগ অংশের জায়গা আমাদের পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান।
তিনি বলেন, মাটি ফেলে শতবছরের পুরানো পুকুর ভরাটের ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুকুর, জলাশয় ভরাট পরিবেশ আইনে নিষিদ্ধ। তাই পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর