শিরোনাম :
ক্ষমতার জোরে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করতে চায় বিএনপি: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খুশি প্রধানমন্ত্রী চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবল নিয়োগ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ভোলায় মানববন্ধন: প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের দাবি Speakers’ demands at the World Environment Day 2026 human chain. Save water bodies, prevent groundwater depletion কক্সবাজারে পাতলী খাল পরিদর্শন করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি

ঘূর্ণিঝড় মোখা: চরম উৎকন্ঠায় কক্সবাজার উপকূলের মানুষ

নিউজ রুম / ১৩৫ বার পড়ছে
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে কক্সবাজারের সাগর প্রচন্ড রকমের উত্তর রয়েছে। জ্বলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে । ৪২ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। খোলা রয়েছে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পর জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ১ লাখ ৯০ হাজার শেল্টার ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। সেন্টমার্টিনের প্রায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সৈকতে নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবস্থান করে।
শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয় কক্সবাজারে। শুক্রবার রাত থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য মাইকিং করছে। এ ছাড়া কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা কক্সবাজার ছাড়তে দেখা গেছে। কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায়ই পর্যটক চলে গেছে। তবে কিছু সংখ্যক পর্যটক এখনো রয়ে গেছে। ৬৭ টি হোটেল কে সে কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বেলা ১২ টায় কক্সবাজার শহরের লাবণি ও সুগন্ধা পয়েন্টে বেশকিছু পর্যটক ঘুরতে দেখা গেছে। তবে বিচকর্মীরা পর্যটকদের সাগরে নামতে বাধা দিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যন্ত উপকূলের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৪২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আসমানিয়া লোকজন গুলোকে রাতে খাবার সরবরাহ করা হয় বলেও জানান জেলা প্রশাসক। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচকর্মীরা কাজ করছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, কুতুবদিয়াতে প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খোলা রয়েছে। এসব বাঁধ দিয়ে মুখার পানি প্রবেশ করার আশঙ্কায় রয়েছে কুতুবদিয়ার মানুষ।
জেলার সব নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে শুক্রবার রাত ১১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের সব হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে কয়েক হাজার মানুষ ট্রলারে করে টেকনাফে চলে এসেছে। যারা আসতে পারেননি তাদের স্থানীয় হোটেল রিসোর্ট এবং নৌবাহিনীর কোস্ট গার্ডের স্থাপনায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে ফোনে জেলা প্রশাসক শাহীন ইমরান জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভেষন কান্তি দাশ জানিয়েছেন উপকূলীয় এলাকার ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভবনে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।
অপরদিকে সবচেয়ে বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে অবস্থিত ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এসব শিবিরে বসবাস করছেন ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু দ্দৌজা নয়ন বলেন,ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ হাজার সেচ্ছা সেবক ও ১ লাখ ৯০ হাজার সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ লক্ষে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইওএম ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক ও রেডক্রিসেন্টসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর