শিরোনাম :
কোটা আন্দোলন : কক্সবাজারে আওয়ামীলীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টির কার্যালয়, মসজিদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাংচুর; ছাত্রলীগ ৪ নেতাকে মারধর কক্সবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বিক্ষোভ মিছিল চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলনে সংর্ঘষে নিহত ছাত্র আকরামের বাড়ী কক্সবাজারের পেকুয়ায় পেকুয়ায় দূর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান বিষয়ক কর্মশালা ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার পর্যটন শহরেও উত্তাপ ছড়ালো কোটা আন্দোলনকারীরা উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব ১৫ জুলাই টেকনাফে জেন্ডার ও বিরোধ সংবেদনশীল সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ মিয়ানমারের বিকট শব্দে আতংকে টেকনাফবাসী টেকনাফে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন

কক্সবাজার হোটেল জোনে’টর্চার সেল : ১১ জন আটক

নিউজ রুম / ৫ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

নুরুল আলম :
কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে একটি ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান মিলেছে; যেখানে আটকে রাখা পর্যটকসহ চারজনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দেশিয় অস্ত্রসহ অপকর্মে ব্যবহৃত নানা উপকরণ।
এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশে অভিযান চালিয়ে দালাল সন্দেহে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধার হয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককূল এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে ইফাজ উদ্দিন ইমন (১৭), একই এলাকার বেলাল আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫) এবং টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার নুর মোহাম্মদের দীল মোহাম্মদ (১৭) ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ফয়েজ আহমেদ এর ছেলে মো. ইমরান (১৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে দীল মোহাম্মদ ও ইমরান উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি। তারা রোববার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য ‘শিউলি’ নামের একটি আবাসিক কটেজে অবস্থান করছিলেন।
এছাড়া উদ্ধার হওয়া অপর দুইজন কক্সবাজার শহরে মায়ের চিকিৎসা করতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য ওই কটেজে উঠে।
আটক দালালরা হল, মো. আলমগীর (৪৫), মো. সেলিম (২০), আকাশ দাস (২৩), মো. জোবায়ের (২৮), মো. মামুন (২২), নাজির হোসেন (২৮), সেকান্দর আলী (২৮), মো. সোহেল (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম(৩৩), মো. জসিম (২৭), মো. পারভেজ (২৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, শিউলি নামের কটেজটির মালিককে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে কটেজটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে মো. রহিম ও লোকমান নামের দুই ব্যক্তি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, রোববার মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন কথিত টর্চার সেলে কয়েকজন পর্যটককে দূর্বৃত্তরা জিন্মি রেখেছে খবরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে সাইনবোর্ড বিহীন সন্দেহজনক ‘শিউলি’ নামের কটেজটি ঘেরা করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রবেশ পথের দরজা তালাবদ্ধ করে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
” পরে নানাভাবে বলার পরও দরজার তালা না খোলায় তালা ভেঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এতে কটেজটির ভিতরে কক্ষগুলোতে তল্লাশী করে দূর্বৃত্তদের কাউকে না পেলেও পালিয়ে যাওয়ার গোপন পথের সন্ধান পায়। এসময় একটি কক্ষে আটকে রাখা অবস্থায় দুই শিশু ও দুই পর্যটককে উদ্ধার করা হয়। কটেজে তল্লাশী করে পাওয়া যায় একটি ছোরা, একটি লোহার রড ও আপত্তিকর কাজে ব্যবহৃত নানা উপকরণ। ”
উদ্ধার হওয়াদের বরাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ” রোববার রাতে কক্সবাজার শহরের আবাসিক কটেজ জোনে কম ভাড়া কক্ষের খোঁজ নিচ্ছিল ভূক্তভোগীরা। এসময় চলাচলের রাস্তায় অবস্থানকারি লোকজন কম ভাড়ায় কক্ষ ভাড়া দেওয়ার কথা বলে সাইনবোর্ড বিহীন শিউলি নামের কটেজটিতে নিয়ে যান। ”
” পরে তারা ( ভূক্তভোগী ) কটেজের ভিতরে গিয়ে দেখতে পায়, কক্ষগুলো পর্যটকদের থাকার মত পরিবেশ নেই। এসময় কটেজে ৫/৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারীকে দেখতে পায়। এরপর ওই নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি তুলে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি। হাতিয়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন। পরে আরও টাকার জন্য স্বজনদের জানাতে তাদের (ভূক্তভোগী) উপর নির্যাতন চালান হয়। ”
রেজাউল বলেন, হোটেল-মোটেল জোনে দেড়-শতাধিক আবাসিক কটেজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্তত ২০/৩০ টি কটেজ রয়েছে সাইনবোর্ড বিহীন। সংঘবদ্ধ দূর্বৃত্তরা মূলতঃ সাইনবোর্ড বিহীন কটেজগুলোকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। এরকম আরও কয়েকটি কটেজ টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহারের তথ্য রয়েছে পুলিশের। দূর্বৃত্ত চক্রের সদস্য পর্যটকসহ সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে জিন্মি করে আসছিল।
পরে শিউলি কটেজের আশপাশে অভিযান চালিয়ে দালাল সন্দেহে ১১ জনকে আটক করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
রেজাউল জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে এবং তাদের কে সদর মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর