শিরোনাম :
তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে ঈদ উপহার উখিয়া উপজেলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা পেকুয়ায় মানবিক সহায়তাঃ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এক হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১৫টি স্থানীয় সিবিওদের মাঝে ১৮, ৯১,৩০৮ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ

ছেলেকে জলদস্যু বলাই লজ্জায় লাশ আনতে যায়নি বাবা

নিউজ রুম / ১৩৫ বার পড়ছে
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক :
মানুষ বলছে আমার ছেলে জলদস্যু, তাই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে, ডাকাতি করতে গিয়ে মেরে ফেলেছে, মানুষের মুখে এসব কথা শোনার পর লজ্জায় প্রশাসনের কাছে যাইনি আমার ছেলের লাশ আনতে। তাই ওর মাকে পাঠিয়েছিলাম। নিজের ছেলের কবরের ঘেরা দেওয়ার সময় কথাগুলো বলছিলেন, ট্রলার থেকেই ১০ মরদেহ উদ্ধারের পর সনাক্ত হওয়া নিহত ওসমান গনির পিতা দিনমজুর মুসা আলী।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলা পুর ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের মিঠাছড়ির বড় কবরস্থানে নিজের ছেলে ওসমানের কবরের চারপাশে ঘেরা দেওয়ার সময় কথা বলছিলেন মুসা আলী।
তিনি বলেন, আমি নিজেও একটি বন মামলা খেয়েছিলাম, ১ মাস ১৬ দিন জেল কেটেছিল। সে মামলার ঘানি টানতে হয়েছে ১২ বছর। সে কারণেই মামলা মোকাদ্দমার প্রতি আমাদের খুব ভয়। ফলে আমার ছেলেকে জলদস্যু বলায় ভয় পেয়ে গিয়ে, লজ্জায় ছেলের লাশ আনতে যায়নি কক্সবাজারে।
পলার থেকেই ১০ মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সনাক্ত হদের মধ্যে মহেশখালীর শাপলাপুরের মিঠাছড়ি এলাকার ওসমান গনি, শওকত উল্লাহ, ও নুরুল কবির ক ওই এলাকার বড় কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। নুরুল কবির আর শওকত উল্লার কবরে প্লাস্টিকের নেট দিয়ে দেওয়া হলেও ওসমানের কবরে তার বাবারষ দিনমজুর মূসা আলী, বাঁশ দিয়ে ঘেরা দেন। এ সময় তিনি আমাদের সাথে কথা বলেন।
মুসা আলী বলেন, তার দুই ছেলের মধ্যে বড় নিহত ওসমান গনি, তার বাবার মতে তার বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে। ওসমান, মোবাইল ঠিক করত, হালকা কম্পিউটারের ট্রেনিংও নিয়েছিল, স্থানীয় বন বিভাগের অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে মাঠে ফুটবল ও খেলত। মাঝেমধ্যে কাজকর্ম করত ।
মুসা আলী বলেন, আমার ছেলে কোনদিন সাগরে যায়নি, সাগর সম্পর্কে আমার ছেলের কোন অভিজ্ঞতাও নেই, আমার ছেলের বয়স ১৪-১৫ হলেও, শরীরের আকৃতি আর গঠন ছিল অনেক বড়, তাই, ( পাশের কবরের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখিয়ে দিয়ে) নুরুল কবির ফুসলি আমার ছেলেকে সাগরে নিয়ে গেছে। তার কারণে আজ আমার ছেলেকে জলদস্যুর তকমা লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হলো।
চলতি এপ্রিল মাসের ১- ২ তারিখের দিকে আমার ছেলে চলে যায়, যাওয়ার সময় আমাকে বলছিল, সে একটি চিংড়ি মাছের প্রকল্পে ঝুঁক বসাতে যাচ্ছে। এতোটুকুই, এরপর থেকে ছেলের আর কোন খবর নেই। কয়েকদিন আগে খবর পেলাম আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। স্থানীয় মানুষজন বলছে, তোর ছেলে ডাকাত, জলদস্যু তাই তাকে মেরে ফেলেছে। এগুলো শোনার পর থেকে মনটা ভীষণ খারাপ ছিল। ফলে লজ্জায় ছেলের লাশ আনতে যাইনি। তার মা জোহরা বেগম গিয়ে সোমবার রাতে লাশ নিয়ে এসে দাফন করছে। আমাকে লাশটাও ভালোভাবে দেখতে দেয়নি। একটু করে দেখেছি মাত্র। পাশের নুরুল ভুদার কবরের দিকে ইঙ্গিত করে মুসা আলী বলেন, এই কোপা জাহাঙ্গীর ( একজন মানুষকে কুপিয়ে ছিলেন বলে নকুল কবির কে, স্থানীয়রা টেপা জাহাঙ্গীর নামে ডাকে) সে আমার ছেলেকে ফুসলিয়ে প্রলোভন দিয়ে সাগরে নিয়ে গেছে। নুরুল কবির একজন খারাপ মানুষ। তার মামলাও রয়েছে। আমি বুঝতে পারলে তার সাথে আমার ছেলেকে যেতে দিতাম। নুরুল কবির একজন ডাকাত। তার কারণে আমার ছেলেকে হারিয়েছি। মুসা আলী বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।
রবিবার (২৩ এপ্রিল) গুরা মিয়া নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধিন একটি ট্রলার সাগরে ভাসমান থাকা ট্রলারটি নাজিরারটেক উপক‚লে নিয়ে আসে। আর ওই ট্রলারের হিমঘরে হাত-পা বাঁধা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলারটির মালিক মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ারছড়া এলাকার ছনখোলা পাড়ার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে সামশুল আলম প্রকাশ সামশু মাঝি। যার মরদেহ গ্রহণ করেছেন তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া মামলার বাদিও তিনি। রোকেয়া বেগমও স্বীকার করেছেন ট্রলারটি মালিক তার স্বামী।
সনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজন মহেশখালী, তারা হলেন ট্রলার মালিক শামসুল আলম মাঝি, নুরুল কবির, ওসমান গনি ও শওকত উল্লাহ। ওসমান গনি ও শওকতুল্লার বয়স ১৭ বছর লেখা হলেও তাদের পরিবার বলছে আরো কম বয়স হবে তাদের।
এরা দুজন কোনদিন সাগরে যায়নি বলে জানাই তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী।
মহেশখালী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ১০ জন নিহতের ঘটনায় আমরা ছায়া তদন্ত করছি। নিহতের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে মহেশখালি থানায় মামলা রয়েছে। এরমধ্যে নুরুল কবিরের অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা এবং শামসু মাঝির বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা মামলা রয়েছে।

ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া ৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলেও মর্গে রয়ে গেছে ৪ জনের মরদেহ ও কংকালটি। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এ ৫ জনের পরিচয়।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর