বিডি প্রতিবেদক :
আন্তঃ ক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের উদ্যোগে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন।
বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা) কারিগরি (মেডিকেল) ক্যাডারের সদস্য বৃন্দ দুপুরে কক্সবাজার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে দাবি জানানো হয় যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বৈষম্য দুর করতে হবে।
বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাক্তার নুরু সাফা চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার উম্মে কুলসুমা খানম, উখিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপজেলা মেডিকেল অফিসার রাজিব পাল, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাদিক আল্লাম আসিফ, রামু উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইমতিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সিরাজুম মুনিরা, মহেশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সৈকত বড়ুয়া।
বক্তারা বলেন,বর্তমানে, স্বাস্থ্য সংস্কারের যে দাবি উঠেছে,সেখানে সংস্কারের কথা আসলেই সবার মাথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ই শুধু আসে।অথচ প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি জনবল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধিদপ্তর (DGFP) যে আছে, সে ব্যাপারে আমাদের সুধী সমাজের অধিকাংশ বড়ই বেখেয়াল।অথচ স্বাস্থ্য সংস্কার করতে হলে এই পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের (DGFP)সংস্কার সবচেয়ে বেশী জরুরী।
সম্পূর্ন ক্লিনিকাল ডিপার্টমেন্ট হওয়ার পরেও, ডাক্তারদের জন্য চরম বৈষম্য ও অবহেলার জায়গা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (DGFP)।নন-ট্যাকনিকাল কর্মকর্তা রা উপজেলা থেকে শুরু করে DGFP পর্যন্ত, প্রশাসনিক পদগুলোতে এমন ভাবে বসে আছে যে, তারা এই ডিপার্টমেন্টে ডাক্তারদের অস্তিত্ব বুঝতেই দিতে চায় না। ডাক্তারদের উপযোগিতা কমানোর জন্য, যা যা করা দরকার সবই উনারা করেন। মেডিকেল সেক্টরে, ডাক্তারদের মাথার উপর ভর করে, ওরা সব কিছু করছে।অথচ, এই ডিপার্টমেন্টে নন-মেডিকেলদের থাকারই কথা ছিলো না।সুকৌশলে চিকিৎসক দের ক্যাডার ছিনতাই করে DGFP এর মতো একটি ট্যাকনিকাল ডিপার্টমেন্ট এর চালকের আসনে সাধারণ ক্যাডার।সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি।
বর্তমান সরকার কৃচ্ছ্রসাধন এর নীতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে!!!শুধুমাত্র স্টোর ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যসেবার জন্য আলাদা করে সাধারণ ক্যাডার রাখা কতটুকু যৌক্তিক তা বিবেচনাযোগ্য !!! স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) এর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রিপোর্টিং, স্টোর ব্যবস্থাপনা সহ সকল কার্যক্রম, মহাপরিচালক থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সকল স্তরের চিকিৎসক গণের নেতৃত্বে, তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।সাধারণ ক্যাডার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কখনোই অপরিহার্য ছিলোনা, এখনও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবেনা। চিকিৎসক ব্যতীত একদিনও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ চলবেনা।সেক্ষেত্রে BCS (Family Planning) সাধারণ ক্যাডারকে যে কোন জেনারেল ক্যডারের সাথে মার্জ করে দেয়া যেতে পারে।কারণ, DGFP সম্পূর্ন মেডিকেল রিলেটেড হওয়ার কারণে, তাদেরও কাজ করতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে BCS (Economic) ক্যাডার কেও প্রশাসনের সাথে মার্জ করা হয়। বর্তমানে সমবায় ক্যাডারকেও অন্য জেনারেল ক্যাডারের সাথে মার্জ করার কথা উঠেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশে এখনো অনেক ডাক্তার বেকার। প্রতি বছর গড়ে ৮-১০ হাজার ডাক্তার পাস করে বের হচ্ছে। এই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে যদি ঢেলে সাজানো যায়, তাহলে, ভবিষ্যতে অনেক ডাক্তার এখানে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারবে। ডাক্তারদের বেকারত্বের হারও কমবে।
বাংলাদেশে ১৯৭৫ সাল থেকে পরিবার পরিকল্পনায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য (এমসিএইচ) কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকদের এই বিভাগে প্রেষণে পদায়নের মাধ্যমে এমসিএইচ বেইজড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিলো। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে, প্রথম সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চিকিৎসক নিয়োগ হয়। প্রথমত, এই অধিদপ্তরের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ক্লিনিক্যাল।দ্বিতীয়ত, ডাক্তাররা সরাসরি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রথম নিয়োগের সুদীর্ঘ ৩২ বছর পর নানা মামলা মোকদ্দমা লড়ে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শক্রমে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা) গঠন ও ক্যাডার আদেশ ২০২০ আলোকে, গত ২৪ জুলাই ২০২২ তারিখে, বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা) ক্যাডার [টেকনিক্যাল (মেডিকেল)] বাই নেইম, স্বতন্ত্র ক্যাডারের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।(সংযুক্তি)
অন্যদিকে ৯০ এর দশকে, ১০ম গ্রেডে (2nd Class) পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (Family Planning Officer) নামক পদে, নন-ক্লিনিক্যাল কর্মকর্তাদের চাকরি দেওয়া হয়। যারা ১৯৯৫ সালে পদটিকে ১ম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে কৌশলে ডাক্তারদের বঞ্চিত করে, আলাদা বিভাগ গঠন করে পরিবার পরিকল্পনা ৬০৩টি পদে ক্যাডারভুক্ত (সাধারন) কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিদ্যমান চিকিৎসক কর্মকর্তাদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।অথচ ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এই নন ট্যাকনিকাল পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা শুধুমাত্র হাসপাতালের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থাপনার দ্বায়িত্ব পালন করেন।
আরেকটি বিষয়টি লক্ষণীয়, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার যখন করা হয়;তখন এ ক্যাডারে আবেদনের যোগ্যতা ছিলো এমবিবিএস অথবা সমতুল্য ডিগ্রী যেটা, ১৯৮৬ সালের গেজেট (কপি সংযুক্ত) দেখলে বোঝা যায়। যা ১৯৮৮ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মতিনের আমলে আইন বহির্ভূত ভাবে কারচুপি করে লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসকদেরকে বন্ঞ্চিত করে ৩২ বছর পিছিয়ে দিয়ে একটা সম্পূর্ন ট্যাকনিকাল ডিপার্টমেন্ট এর (পরিবার পরিকল্পনা) উপজেলা,জেলা,বিভাগ ও কেন্দ্রের চালকের আসনে নন-টেকনিক্যাল হর্তাকর্তারা আর টেকনিক্যাল বিভাগের টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা ধুলোমাখা পথে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত,ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত।প্রায় ৩২ বছর পর ২০২২ সালে ট্যাকনিক্যাল ক্যাডার গঠিত হলেও সুসংগঠিত পদকাঠামো না থাকায় একজন ট্যাকনিকাল ক্যাডার কর্মকর্তার প্রায় সম্পূর্ন চাকুরীকাল যোগদানকৃত পদেই (মেডিকেল অফিসার) সমাপ্ত হচ্ছে যা ঘোরতর বৈষম্য শুধু নয় লজ্জাজনক, অমানবিক চাকুরি ব্যবস্থা।