
বিডি প্রতিবেদক :
কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুললেন কক্সবাজার শহরের সমিতির পাড়ার বাসিন্দারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বিমান বাহিনীর সদস্যরা। এতে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা বলেন, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিমান বাহিনী ঘাঁটির নামে অপ্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। যেখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে জলবায়ু উদ্বাস্তু প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এই জমি অধিগ্রহনের বিরুদ্ধে ও জমি বন্দোবস্তের দাবিতে আন্দোলনরতদের একজন জাহদকে বিমান বাহিনীর চেকপোস্ট থেকে আটক করা হয়। দীর্ঘসময় পর তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন সেখানে যান। এসময় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বিচারে গুলি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজ নেতা ফুরকানুর রশিদ, এম এজাবত উল্লাহ কুতুবি ছাবের আহাম্মদ, সৈয়দ আলম ও ছাত্র প্রতিনিধি সাগর।
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর এর বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোকে স্থানীয় লোকজনকে ‘দুর্বৃত্ত’ অভিহিত করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানানো হয়।

এদিকে এক বিবৃতিতে আইএসপিআর থেকে জানানো হয়েছে, “ কক্সবাজারে অবস্থিত বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার সংলগ্ন সমিতিপাড়ার কিছু স্থানীয় দুর্বৃত্ত সোমবার বিমান বাহিনী ঘাঁটির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বিয়াম স্কুলের পাশে বিমান বাহিনীর চেকপোস্ট হতে একজন স্থানীয় লোকের মটর সাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় বিমান বাহিনীর প্রভোস্ট কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘাঁটির অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সমিতি পাড়ার আনুমানিক দুই শতাধিকেরও বেশি স্থানীয় লোকজন বিমান বাহিনীর ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হলে বিমান বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বিমান বাহিনীর চেকপোস্ট এলাকায় বিমান বাহিনীর সদস্য ও সমিতি পাড়ার কতিপয় দুষ্কৃতকারী লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে কতিপয় কুচক্রী মহলের ইন্ধনে দুর্বৃত্তরা বিমান বাহিনীর সদস্যদের উপর ইট পাটকেল ছুড়ে। এসময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন যার মধ্যে বিমান বাহিনীর ৪ জন সদস্য (১ জন অফিসার ও ৩ জন বিমানসেনা) আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং শিহাব কবির নাহিদ নামের এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় বিমান বাহিনীর গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার্থে বিমান বাহিনীর সদস্যগণ কর্তৃক বিমান বাহিনীর Rules of Engagement অনুয়ায়ী ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়, তবে স্থানীয় জনসাধারণের উপর কোন প্রকার তাজা গুলি ছোড়া হয়নি। বিমান বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। “