তুহিন তুয়ার
সংস্কারের ১৫ দিনের মাথায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের একটি স্লুইচ গেট ধসে পড়েছে। সিত্রাংয়ের প্রভাবে মাতামুহুরী নদীতে অতিরিক্ত জোয়ার হলে এই স্লুইচটি ধসে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় স্লুইচ গেটটি ঠেকসই হয়নি। এ কারনে ধসে পড়েছে।
শুক্রবার বিকেল তিনটায় সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৬৪/বি পোল্ডারের ৫২ নম্বর স্লুইচ গেটটির ভেতরের অংশের মাটি সরে গেছে। অন্তত সাতটি পাইপ স্লুইচ গেট থেকে বের হয়ে গেছে। স্লুইচ গেটের দুই পাশের বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। জোয়ারের তোড়ে পুরো স্লুইচ ধসে পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত জুলাই মাসে ৫২ নম্বর স্লুইচ গেটটি ভেঙে পড়ে। পরে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্ধ দিয়ে স্লুইচ গেট সংস্কার কাজ শুরু করে। গত তিন মাস ধরে পানি আটকিয়ে সংস্কার কাজ করায় শত শত ঘর-বাড়ি ও মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। ১৫ দিন আগে স্লুইচ গেট সংস্কার শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সংস্কারের ১৫ দিনের মাথায় গত বুধবার সিত্রাংয়ের প্রভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ফের ভেঙে পড়ে স্লুইচ গেটটি।
উজানটিয়ার ফকিরাপাড়ার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৪৫) বলেন, স্লুইচ গেট সংস্কারে ৩৩ টি ছোট পাইপ, ৫০০ টি ইট, ১০০ বস্তা বালু ও পাঁচ বস্তা সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র। যার কারনে সংস্কার কাজ খুবই নিম্নমানের হয়। স্থানীয় লোকজন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংস্কার কাজ বন্ধ করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা মামলার হুমকি দেন স্থানীয়দের। এ কারণে স্থানীয় লোকজন সংস্কার কাজ নিয়ে আর মাথা ঘামায়নি। ঠিকই ১৫ দিনের মাথায় ধসে পড়েছে স্লুইচ গেটটি।
উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জল করিম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের আওতাধীন উজানটিয়ার এই স্লুইচ গেটে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কারের কাজ ২০ দিনও ঠেকেনি। এক কথায় এটা যেন বরাদ্ধ লুটের আয়োজন।
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুপ চক্রবর্তী বলেন, এই কাজটি দ্রুত সময়ে করতে আয়েশা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল। তাঁরা সংস্কার কাজও সমাপ্ত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্মাণের অল্প কদিনেই তা ধসে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ও আয়েশা কনস্ট্রাকশনের নাম-ঠিকানা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।