বিডি প্রতিবেদক :
অসুস্থ হয়ে ৫ দিন ধরে পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে থাকা হাতির বাচ্চাটাকে শত চেষ্টা করেও
আর বাঁচানো গেল না। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হাতের বাচ্চাটি মারা যায়।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের জঙ্গল মৌজা নামক পাহাড়ি এলাকায় গত সোমবার রাতে মায়ের সাথে এসে আটকে যায় একটি হাতির বাচ্চা।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার জানান, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজনের নিকট খবর পেয়ে আমাদের বন বিভাগের টহল দল সেখানে ছুটে যায় । এরপর দোলহাজারা সাফারি পার্কে থাকা ভেটেনারি চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এ হাতে বাচ্চার চিকিৎসা শুরু হয় ঘটনাস্থলে।
ভেটেনারি চিকিৎসক ডাক্তার জুলকারনাইন জানান,
গত মঙ্গলবার থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত হাতির বাচ্চাটাকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারেনি।
হাতির বাচ্চাটি পায়ে খুব আঘাত পেয়েছে। সে কোনভাবেই উঠতে পারছিলনা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, আমি এ পর্যন্ত দুইবার গিয়েছি। প্রতিদিন চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছি। এমনকি শনিবার বেলা দুইটার দিকে আমি ওই হাতির বাচ্চাকে পানী খাওয়াইছি। হাতির বাচ্চাটি মারা যাওয়ার খবরে আমারও খুব খারাপ লাগছে। বনে চাকরি করি বলেই হয়তো পুরো পরিবারের বন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের প্রতি আলাদা একটি ভালোবাসা রয়েছে আমাদের। আমার পরিবারের সদস্যেরাও হাতির বাচ্চার মৃত্যুর খবরটি শুনে কষ্ট পেয়েছে।
শত চেষ্টার মাঝে শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হাতের বাচ্চাটি মারা যায়। পোস্ট মডেম করার পর বাচ্চাটাকে মাটিতে ফুতে ফেলা হবে বলে জানান এই কোন কর্মকর্তা।