ডা.সোমা চৌধুরী :
প্রচন্ড গরম চারিদিকে। তীব্র তাপদাহে অস্হির হয়ে পড়েছে মানুষ। গর্ভবতী মায়েদের শরীরে গরম বেশি অনুভূত হবার কারণে তারা আরো বেশি কষ্ট পাচ্ছে। এই সময়ে তাঁরা কিছু পরামর্শ গ্রহণ করলে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। যেমন:
১)পর্যাপ্ত পানি পান করুন ঃ স্বাভাবিক সময় এর চেয়ে বেশী পানি খেতে হবে।প্রস্রাব হলুদাভ হলে বুঝতে হবে পানি শুন্যতা দেখা দিচ্ছে। গরমে ডিহাইড্রেশন হলে অথবা শরীর খারাপ লাগলে ওরস্যালাইন, ডাব, লাচ্ছি, জুস, দই, গ্লুকোজ, লেবুর পানি প্রভৃতি তরল খাবার প্রতিদিন খেতে পারেন।
২)বিশ্রাম ঃ এ সময় পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম ঘাম কমায়।রান্নার কাজ বেশি সময় ধরে করবেন না।ঘরোয়া কাজগুলো যতটা সম্ভব সকালের দিকে সেরে ফেললে গরম একটু কম লাগবে।
৩)নিয়মিত গোসলঃ গরমে নিয়মিত গোসল (প্রয়োজনে দিনে দুই বার)আরাম দেয়।লক্ষ্য রাখবেন ঘাম যেন কখনো শরীরে না শুকায়।
৪)আরামদায়ক কাপড়ঃ হালকা রং এর ঢিলেঢালা সুতার কাপড় পরা উত্তম। জাঁকজমকপূর্ণ কাপড় তাপ বেশি শোষণ করে বলে গরমে পরিহার করা ভালো।
৫)খাদ্যাভ্যাসঃ অল্প অল্প বারে বারে
খাবেন।চা,কফি, উচ্চমান প্রোটিন, তেল,মশলা যুক্ত খাবার না খেয়ে চিড়া,দই,ডাল,মাছের ঝোল,শাক, বিভিন্ন সবজি , পানিযুক্ত ফল, (জামরুল,তরমুজ,শসা) এসব খাওয়া ভালো।বাইরের খাবার ত্যাগ করুন।অনেকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেতে চায়।ফ্রিজের পানি বা খাবার সাথে সাথে না খেয়ে কিছু ক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে খেলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কম থাকে।
৬)বাইরে বের হওয়াঃ সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়া উচিত। তবে কাজ থাকলে তা সকালে বা বিকালে করাটা ভালো।এ সময় সানগ্লাস, ছাতা,পানি,সানস্ক্রিন
লোশন সাথে নিতে ভুলবেন না।
৭)ঘর ও বিছানাঃ বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে সুতার বেডশীট বিছানো বিছানা গর্ভবতী মায়ের জন্য আরামদায়ক। মা তাঁর যে পাশেআরাম লাগে সেপাশে শুতে পারেন তবে বাম কাতে শুলে তা শিশুর অক্সিজেন প্রাপ্তি তে সহায়ক হয়।
গরমে গর্ভবতীর পায়ে বেশি ফোলা, চুলকানি, ঘামাচি, দুর্বলতা, পানিশুন্যতা, ডায়রিয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটু খেয়াল করে উপরের পরামর্শ গুলো মেনে চললে গর্ভবতী মা গরমের অস্বস্তি থেকে অনেকটা
আরাম পাবেন এবং সমস্যাও কম হবে।মাকে সচেতন থাকতে হবে কারণ
মা ভালো থাকলে তার অনাগত শিশু
লেখক: অবস ও গাইনী বিশেষজ্ঞ