শিরোনাম :
কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার রামুতে সাড়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি

স্বপদে বহাল রাখতে কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালকসহ ঠিকাদারী সিন্ডিকেটের ৩০ কোটি টাকার মিশন!

নিউজ রুম / ১৮১ বার পড়ছে
আপলোড : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক :

কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকায় ইউনুচ ভুইয়া বিমান বন্দর উন্নয়ন ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলো লুটে খাচ্ছে।
বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক এর এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ আজ ২১ জানুয়ারী। তাকে স্বপদে বহাল রাখতে কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালকসহ ঠিকাদারী সিন্ডিকেটের ৩০ কোটি টাকার মিশন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করা নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২ বছর আগে ইউনুচ ভুইয়া কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ভুয়া বিল ভাউচার করে তৎকালিন তত্ত¡াবধায় হাবিবুর রহমানকে অন্তত ১০ কোটি টাকার প্রথম বিলটি ছাড় দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। ওই সময় ভুয়া বিল ভাইচার ছাড় না দেওয়ায় বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক তাকে ( হাবিবুর রহমান) প্রত্যাহার পরবর্তী ওএসডিও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত তত্ত¡াবধায় প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হলে সেই সময় সর্বত্র তোলপাড় চলে। তবে বিষয়টি আর বেশি দুর এগুয়নি।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পদোন্নতি পাওয়া ভারপ্রাপ্ত তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে দিয়ে অনিয়ম আর দুর্নীতির ডেরায় পরিণত করেছে বেবিচককে।এরই ধারবাহিকতায় অন্তত ১০ কোটি টাকার ভুয়া বিল ভাউচার নিয়ে টাকা ছাড়ের কাজ সম্পন্ন করে সমুদয় অর্থের সিংহভাগ টাকা ভাগভাটোয়ারার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র মতে, বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজে প্রথম প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল হাসিব। তৎসময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় এই আমিনুল হাসিবও একবার বরখাস্ত হয়েছিলেন। তার দেখানো পথেই হাটছেন বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ও বেবিচক নিবার্হী প্রকৌশলী ইউনুচ ভুইয়া।

সুত্র মতে, কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকেল্পের অধীনে আর্ন্তজাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ কাজ গত ২০২২ সালে সম্পন্ন ও বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও চলতি ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত শুধু কালক্ষেপনই করে যাচ্ছে। যার কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে আতাত করে সময় বৃদ্ধির পাশপাশি ব্যয়ও বাড়ানোর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণে কাজে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মর্মে ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বরাদ্দের চেয়ে ২০ পার্সেন্ট ব্যয় বাড়িয়ে সংযুক্ত প্রকল্প অনুমোদনও করে নেওয়ার নজির রয়েছে এখানে।
একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র মতে, প্রকল্প পরিচালক ইউনুচ ভুইয়া পরিচালকের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী ডিভিশন-৫ এর কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তার ও প্রধান প্রকৌশল আবদুল মালেকের পছন্দসই ঠিকাদারদেরকে ইজিপি সিস্টেম করে কাজ দিয়েছেন। ইজিপি সিস্টেমে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই দাবী করা হলেও তারা ইজিপিতেই সিস্টেম করে তাদের পছন্দের ঠিকাদারের বাইরে অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করলেও বিভিন্ন অজুহাতে টেন্ডার বাতিল করার অহরহ অভিযোগ রয়েছে। এই সিস্টেমকে বৈধ করার জন্য সিস্টেমেই পুনরায় দরপত্রে বিভিন্ন শর্তাবলী যোজন-বিয়োজন করে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ আছে। যার নজির ন্যাশনাল ট্রেডার্সেরসহ অসংখ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত কার্যাদেশ পর্যালোচনা করলে এর সত্যতা মিলবে। এসব ঘটনাগুলো তদন্তের দাবী উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এদিকে, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের এক বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ ২১ জানুয়ারী-২০২৪। বেবিচক এর চেয়ারম্যানের ভায়রাকেও প্রায় ১৮ কোটি টাকার কাজ দিয়ে চেয়ারম্যানকেও বশে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সুত্র।
ইতোমধ্যে তাকে (আবদুল মালেক) স্বপদে বহাল রাখার জন্য তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব ও কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক ইউনুচ ভুইয়াসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার মিলে অন্তত ৩০ কোটি টাকার মিশনে নেমেছে বলে সুত্রে প্রকাশ।
সুত্র জানায়, কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প ও এর বাইরে উন্নয়ন মুলক কাজে দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে নবনিযুক্ত বেসরকারী বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীকেও বশে আনার জন্য একটি গ্রæপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এর ব্যক্তিগত সহকারী নামধারী জনৈক আতিককেও বিভিন্ন কাজ দিয়েছে। যার দায়িত্ব রয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ম্যানেজ করার অভিযোগ।

অপরদিকে, মিশনের ৩০ কোটি টাকা বিলির একটি প্রাথমিক তালিকাও পাওয়া গেছে একটি দায়িত্বশীল সুত্রে। এদের মধ্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মুখ্য সচিব ,পর্যটন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী, সচিব, সংস্থাপন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেশ কিছু প্রভাশালী মিডিয়াও নামও ভাঙ্গানো হচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেককে স্বপদে বহাল রাখার জন্য মুল পরিকল্পনাকারী দুর্নীতিবাজ কক্সবাজার বিমান বন্দর সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্প পরিচালক ইউনুচ ভুইয়া গত ২০দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছে।
বেবিচককে দুর্ণীতির আতুরঘরে পরিণত করা প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেককে অপসারণসহ দেশের সকল বিমান বন্দর প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের দাবী তুলেছেন কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সচেতন মহল।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর