শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবল নিয়োগ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ভোলায় মানববন্ধন: প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের দাবি Speakers’ demands at the World Environment Day 2026 human chain. Save water bodies, prevent groundwater depletion কক্সবাজারে পাতলী খাল পরিদর্শন করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি কক্সবাজারের মহেশখালীর মানুষের মুখে হাসি ফুটালো আইএসডিই বাংলাদেশ সড়কের আশপাশে পশুর হাট বসলে আইনি ব্যবস্থা -এমপি কাজল চকরিয়ায় বি.এম চর ইউনিয়নে ১৫শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ

শৃঙ্খলা ফিরেছে কটেজ জোনে : ২২জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা

নিউজ রুম / ১৪০ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের বহুল পরিচিত পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের কলাতলী কটেজ জোন। ছোট বড় দুই শতাধিক কুঠিরের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই পর্যটন জোন। বিলাস বহুল আবাসিক হোটেলের ন্যায় গড়ে ওঠা এসব কটেজে রয়েছে স্বল্প করেছে পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুব্যবস্থা। তাই এজোনে সারা বছরই দৃশ্যমান থাকে মধ্যবিত্ত আয়ের অসংখ্য পর্যটক। এসব পর্যটকেরা ব্যয় স্বল্পতা হওয়ায় রাত্রি যাপনের জন্য সহজেয় বেছে নেয় কটেজ গুলো। মনোরম পরিবেশে রাত্রীযাপনে নিজেরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে অনেক পর্যটকের রয়েছে ভিন্ন অভিযোগ। কেননা এ জনোর কিছু রিসোর্ট মালিক শ্রমিক এবং গুটি কয়েক অসাধু সদস্যের সমন্বয়ে পতিতাবৃত্তি করানো হয়।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে এসব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও পুনরায় পতিতার উৎপাত অব্যাহত থাকে। তবে এবার সকল অপশক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রায় পতিতা শূন্য করা হয়েছে এই কটেজ জোন। গত ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় ২২জনকে চিহ্নিত করে মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে এদের অনেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী সংগ্রহের মাধ্যমে এ পতিতাবৃত্তির মতো এমন ঘৃণিত কাজ করে আসছেন। এমনই একটি তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ ডিসেম্বর উক্ত কটেজ জোনের “আজিজ গেস্ট ইন” এ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জিম্মি দশা থেকে এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ছয়জনকে অজ্ঞাত রেখে ২২জনকে চিহ্নিত করে ২৬ ডিসেম্বর ১১৭৬৯ নং স্মারক মুলে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এবং ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করা হয় একদিন পর আরো একজনকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উক্ত গেস্ট ইন এর দ্বিতীয় তলায় ভয়-ভীতি পূর্বক আটক রেখে বগুড়া জেলার সান্তাহার আম বাগান গ্রামের রেল ওয়ে কলোনির বাসিন্দা মোঃ মানিক হোসেন এর কিশোরী কন্যা মিথিলা আক্তার মনি (১৫) কে দীর্ঘ দুই মাস যাবত পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করা এবং সহায়তা করার সূত্রে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৮(২)/ ১১/ ১২/ ১৩ ধারামতে মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় আজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন যথাক্রমে, ১। মহেশখালী উপজেলার শাপলা পুর জে এম ঘাট এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে লোকমান সরওয়ার ২। বগুড়া জেলার তিলছ দিঘির ৯নং ওয়ার্ড ইউনুছ আলীর ছেলে সোহেল রানা(২৭) ৩। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ২ নং ওয়ার্ড শৈলাট গ্রামের জহির উদদীন আখন্দ’র ছেলে আব্দুর রহিম আখন্দ(২২) ৪। রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড পূর্ব পাড়ার আনোয়ার জামালের ছেলে আবেদীন(৩৮),৫। খুরুশকুল তেতৈইয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এহেসান মেম্বারের ছেলে নাজির আলম (৪০),৬। নাঈমা রিসোর্ট এর মালিক মহেশখালী নতুন বাজার গ্রামের মকসুদ মিয়া আসিফ ৭। গেস্ট হাউস মালিক টেকনাফ নোয়াখালী পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে রহিম উল্লাহ ৮। সি টাউন হোটেল মালিক মহেশখালী নতুন বাজার এলাকার ফোরকানের ছেলে সিরাজ (৪২),৯। লাইট হাউস ফাতের ঘোনা এলাকার আমির উদ্দিন এর ছেলে খোরশেদ আলম।১০, দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়া কবরস্থান পাড়ার আবুল হোসাইন এর ছেলে খাইরুল আমিন (৪০)।১১, বান্দরবানের ২২৮ নং আলীকদমের সাবের মিয়া পাড়ার জাফর আহমদ এর ছেলে আবুল বাশর (৩০)।১২,লাইট হাউস এলাকার সেলিম। ১৩, আমির ড্রীম গেস্ট হাউস মালিক লাইটহাউজ এলাকার মতিন মিস্ত্রির ছেলে ইসমাইল হোসেন শাহিন। ১৪,হোটেল ওসান এম্পায়ার এর মালিক লাইট হাউস সৈকত পাড়া এলাকার মান্নান ওরফে আলী জহির। ১৫, লাইট হাউস পাড়ার কবির।১৬,লাইট হাউস পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আমিন। ১৭, পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ঘোনার পাড়ার সিরাজুল ইসলাম । ১৮, মোঃ ওসমান ১৯,মিজান ২০,নাসির ২১,এ বি সি এল হোটেলের পরিচালক শাকিল ২২,লাইট হাউস বাসিন্দা এবং এবিসিএল হোটেলের পরিচালক মোহাম্মদ কালু।

পুলিশের এই মামলা পরবর্তী কটেজ জোনে পতিতা খদ্দের এবং দালালের উৎপাত অদৃশ্য হওয়াই ব্যবসায়ীদের মাজে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। একই সাথে পর্যটন জোনে এই অভিযান অব্যাহত রেখে সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এ সকল ব্যবসায়ীরা। পতিতার উৎপাত বিহীন বর্তমান সুন্দর পরিবেশের কটেজ জোন সম্পর্কে একাধিক পর্যটক জানান,সব সময় যদি এ জোনের পরিবেশ এমন থাকে তাহলে নির্দ্বিধায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণে এসে স্বল্প খরচের এই কটেজ গুলোতে রাত্রি যাপন করা সম্ভব।

প্রাথমিক পর্যায়ে মামলার এজাহারে অনেক প্রভাবশালী দালালের নাম ঠিকানা অসংগতি রয়েছে। তাই সঠিক তদন্ত পূর্বক তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে পরবর্তী পর্যায়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা না গেলে আইনের ফাকফোকরে তারা পার পেয়ে গেলে পুনরায় এসব অপকর্ম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।

তবে পর্যটকের নিরাপত্তা রক্ষাসহ প্রতিটি অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অধিক তদন্ত পূর্ব ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং অভিযুক্তদেরকেও কেউ বাদ পড়ার কোন সুযোগ নাই বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর