শিরোনাম :
কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার রামুতে সাড়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন থেকে অপরাধে জড়িত ১৮ জনকে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ

নিউজ রুম / ১২৮ বার পড়ছে
আপলোড : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিডি প্রতিবেদক :

কক্সবাজার শহরে হোটেল-মোটেল জোনের ‘অপরাধীদের আস্তানা’ খ্যাত আবাসিক কটেজ জোন এলাকা থেকে পর্যটকদের টার্গেট করে নারীদের দিয়ে জিন্মি, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং অসামাজিক কার্যকলাপসহ নানা অপরাধে জড়িত অভিযোগে ১৮ জনকে আটক করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকরা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা নারীদের দিয়ে কৌশলে ফাঁদে ফেলে পর্যটকদের এসব আবাসিক কটেজে জিন্মি করে সাথে থাকা সবকিছু লুটে নিয়ে সর্বশান্ত করে আসছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অজ্ঞলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক ( এডিআইজি ) মো. আপেল মাহমুদ।
আটকরা হল- বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার কালবিলা এলাকার গনেশ বৈদ্যের ছেলে প্রকাশ বৈদ্য (১৯), একই উপজেলার শিকারপুর এলাকার সিরাজ হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব (২০) ও আব্দুল করিম বেপারীর ছেলে মো. সাব্বির (১৯), কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাঘুইগ্রাম এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছেলে সানি আলম (২২), একই এলাকার মো. জয়নালের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (২১) ও হারুনুর রশিদের ছেলে ইয়ানুর রশিদ (১৯), চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার রায়পুর এলাকার আবুল বশরের ছেলে মো. সাখাওয়াত হোসেন (৩৩), সাতকানিয়া উপজেলার আমিরখিল এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মিজানুর রহমান (২০), চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী আদর্শগ্রাম এলাকার মো. রিয়াজ (২২) ও একই এলাকার আব্দুল মাহাবুবের ছেলে মো. ইকবাল (২২), বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলার আলী মেম্বার পাড়ার আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. মিজবাহ (২৫)।
এছাড়া নারীরা হল- চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থানার কাটাঘর এলাকার মো. ইউসুফের মেয়ে কুলসুমা বেগম (২৫), ঢাকা শহরের আশুলিয়া থানার আটিপাড়ার মোকতার মাতব্বরের মেয়ে মুক্তা আক্তার (২৩), কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার ফজল মিয়ার মেয়ে তৈয়বা আক্তার (১৯), শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার মো. আকবর আলীর মেয়ে আকলিমা আক্তার (২০), বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লোহাগড়া এলাকার পেঠান আলীর ওরফে ফেরাইন্ন্যার মেয়ে ইমু বেগম (২৪), ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার কালুয়াবাজার এলাকার বাদশা হাওলাদারের মেয়ে লামিয়া বেগম (২০) ও গোপালগজ্ঞ জেলার মুকসেদপুর উপজেলার কটিকামারি এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রিয়া মনি (২২)।
সাংবাদিক সম্মেলনে আপেল মাহমুদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার ঘুরতে এসে শহরের কটেজ জোন এলাকায় অবস্থানকারি কয়েকজন পর্যটকের কাছ থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কিছু অভিযোগের পায়। এর প্রেক্ষিতে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ টি কটেজ থেকে ৭ জন নারীসহ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ১৮ জন সদস্যকে আটক করেছে।
অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক বলেন, “ আটকরা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্যরা আবাসিক কটেজ জোন কেন্দ্রিক পতিতাবৃত্তি, মাদক কারবার, ছিনতাই, অপহরণ ও গোপনে ভিডিওচিত্র ধারণ করে পর্যটকদের জিন্মিসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। “
কক্সবাজার শহরের পর্যটন এলাকায় দুই শতাধিক আবাসিক কটেজ রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে সাইনবোর্ড বিহীন ৬ টি কটেজের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ সংঘটনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তথ্য দিয়ে আপেল মাহমুদ বলেন, “ ইতিমধ্যে আবাসিক কটেজ জোন কেন্দ্রিক সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের পুলিশ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অভিযান চালিয়ে সব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। “
“ এসব অপরাধীরা পর্যটকদের দালালদের মাধ্যমে রাত্রিযাপনের জন্য কটেজে নিয়ে আসে। পরে সুযোগ বুঝে নারীদের দিয়ে এসব পর্যটকদের ফাঁদে ফেলানো হয়। এরপর গোপনে ভিডিওচিত্র ধারণ পর্যটকদের জিন্মি করে সবকিছু লুট করে সর্বশান্ত করা হয়। এসব কটেজে পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি চলছে মাদক ব্যবসাও। “
“ এসব আবাসিক কটেজের গোপন কক্ষে পর্যটকদের জিন্মি রেখে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে “ বলে তথ্য দিয়েছেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা।
আপেল মাহমুদ জানান, গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠা অবৈধভাবে পরিচালিত ৬ টি কটেজে অভিযান চালিয়ে তালা লাগিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর