শিরোনাম :
কক্সবাজারে শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কক্সবাজারে চাকরি মেলায় নিশ্চিত হলো ১৩২ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস : নিজ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের হাতি বাঁচলে টিকবে জীববৈচিত্র্য, বাড়বে বনাঞ্চলের সবুজায়ন ক্ষমতার জোরে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করতে চায় বিএনপি: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খুশি প্রধানমন্ত্রী চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বিশ্ব জেলিফিস দিবস

নিউজ রুম / ১৯৩ বার পড়ছে
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

সৌমিত্র চৌধুরী :
আজ বিশ্ব জেলিফিস দিবস।এ দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্স ইনস্টিটিউট কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করেছে।
আমাদের দেশের জেলিফিস সম্পর্কে আমরা খুবই কম জানি।বঙ্গোপসাগের জেলিফিসের বিস্তার থাকলেও এ বিষ্ময়কর প্রানীটি নিয়ে এদেশে তেমন কোন গবেষণা হয়নি।
জেলিফিশ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন প্রাণীদের মধ্যে একটি। তারা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং জেলিফিশ নামেই সুপরিচিত। বেশিরভাগ জেলিফিশই নিডারিয়া (Phylum-Cnidaria) পর্বের এবং এদের ১০,০০০ টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। বলা বাহুল্য, সমুদ্রের ঠাণ্ডা কিংবা উষ্ণ জল, পৃষ্ঠে কিংবা গভীরে, সারা বিশ্বের সবখানেই প্রচুর পরিমানে এদের দেখা যায়। তাদের বেদনাদায়ক হুলের কারনে বেশিরভাগ লোকই যেসব জায়গায় তাদের বিচরণ, সেখানে সাঁতার কাটতে ভয় পাই। তবে, সব জেলিফিশ হুমকি স্বরুপ না।
জেলিফিশ নিয়ে কিছু মজার তথ্যঃ
• জেলিফিশ ডাইনোসরের চেয়েও পুরানো হতে পারে!
যেহেতু জেলিফিশের কোন হাড় নেই, তাই জীবাশ্ম পাওয়া কঠিন। তা সত্ত্বেও, বিজ্ঞানীদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে, এই প্রাণীগুলি অন্তত ৫০০ মিলিয়ন বছর ধরে বিশ্বের মহাসাগরে বিরাজমান। যা পৃথিবীতে ডাইনোসর আবির্ভাবের প্রায় তিন গুন সময়েরও আগের কথা। এমন কিছু জেলিফিশের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যখন পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে ছিল।
• তারা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেদের ভালভাবে মানিয়ে নিচ্ছে!
জেলিফিশ সামুদ্রিক হিট ওয়েভ, ওশ্যান এসিডিফিকেশন, অতিরিক্ত মাছ নিধন সহ সমুদ্রের উপর মানব সৃষ্ট বিভিন্ন প্রভাবকে উপেক্ষা করে সমৃদ্ধভাবে টিকে আছে। যদিও ওশ্যান এসিডিফিকেশনের প্রভাবে সমুদ্রের প্রবাল এবং শক্ত খোলস বিশিষ্ট প্রানীগুলো আজ হুমকীর মুখে সেখানে জেলিফিশের মত একটা নরম প্রানী দিব্যি টিকে আছে।
কিন্তু জলবায়ু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে কিছু এলাকায় জেলিফিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যগুলোতে হ্রাস পাবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, সমুদ্র বিজ্ঞানীরা জেলিফিশ এবং অন্যান্য জীবের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ, যেহেতু জেলিফিশ কম অক্সিজেন পরিবেশেও বেশ স্থিতিস্থাপক, তাই তারা শীঘ্রই প্ল্যাঙ্কটনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার জন্য আরও অক্সিজেন প্রয়োজন হতে পারে এবং সেই স্থানের প্রায় সকল প্রানীকেই হুমকির সম্মুখীন করে তোলে।
•নামে জেলিফিশ হলেও তারা সত্যিই মাছ নয়!
আপনি যখন একটি জেলিফিশকে ক্ষনিকের জন্যেও দেখবেন আপনার তাকে কোনভাবেই মাছ বলে মনে হবে না। এরা মূলত নিডারিয়া পর্বের অমেরুদন্ডী প্রানী এবং এরা এতই বৈচিত্রময় যে অনেক বিজ্ঞানী তাদের কেবল “জেলাটিনাস জুপ্ল্যাঙ্কটন” হিসাবে উল্লেখ করেছেন। জেলিফিশের মাছের মতো আঁশ, ফুলকা বা পাখনা থাকে না। এর পরিবর্তে, তারা তাদের গোলাকৃতি “বেল” খোলা এবং বন্ধ করার মাধ্যমে সাঁতার কাটে।
• জেলিফিশের শরীরের ৯৮ ভাগ পানি!
মানবদেহ ৬০ ভাগ এবং জেলিফিশ ৯৮ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত। যখন তারা উপকূলে ভেসে চলে আসে, তারা মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে, তাদের দেহ অবিলম্বে বাতাসে বাষ্প হয়ে যায়। তাদের মস্তিষ্ক অনুপস্থিত এবং একটি প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে। শুধুমাত্র এপিডার্মিসে স্নায়ুর একটি আলগা নেটওয়ার্ক অবস্তিত যাকে “নার্ভ নেট” বলা হয়। তাদের হৃদযন্ত্রও নেই; তাদের জেলটিনাস দেহগুলি এত পাতলা যে তারা কেবলমাত্র প্রসারণের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে।
• তাদের চোখ থাকতে পারে!
যদিও তাদের শারীরিক গঠন খুবই সাধারণ, তবে কিছু কিছু জেলিফিশে দৃষ্টিশক্তি বিদ্যমান। এমনকি, কয়েকটি প্রজাতির ক্ষেত্রে, তাদের দৃষ্টি আশ্চর্যজনকভাবে জটিলও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বক্স জেলিফিশের ২৪ টি “চোখ” রয়েছে, যার মধ্যে দুটি চোখ রঙ দেখতে সক্ষম। এমনকি, এই প্রানীটির দৃষ্টিশক্তি এতই জটিল যে, এরা ৩৬০-ডিগ্রি কোণেও একই সময়ে দেখতে পারে।
• কিছু জেলিফিশ অমর হতে পারে!
জেলিফিশের অন্তত একটি প্রজাতি, Turritopsis nutricula, মৃত্যুকেও ঠেকাতে সক্ষম। তারা যখন হুমকির সম্মুখীন হয়, তখন এই প্রজাতিটি সেলুলার ট্রান্স- ডিফারেন্সিয়েসন শুরু করে, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের কোষগুলি আবার নতুন হয়ে ওঠে।
এই জেলিফিশটিকে কথোপকথনে “অমর” জেলিফিশও বলা হয় এবং এটি ক্যারিবিয়ান এবং ভূমধ্যসাগরের উষ্ণ জলে বাস করে। এর অনন্য ট্রান্স- ডিফারেন্সিয়েসন ক্ষমতা গবেষণার একটি প্রধান বিষয়, কারণ এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রকে বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে ক্যান্সার কোষগুলিকে পেশী, স্নায়ু বা ত্বকের মতো নন-ক্যান্সার কোষে পরিণত করা যায়।
• তাদের মুখ-গহ্বর ও মলদ্বার একটাই!
এটি বিচ্ছিরি শুনালেও, জেলিফিশ খাওয়া এবং মলত্যাগের জন্য আলাদা ছিদ্র ব্যবহার করে না। তাদের একটি ছিদ্র রয়েছে যা মুখ এবং মলদ্বার উভয়ের কাজ করে। জেলিফিশ একটি সাধারণ বা “আদিম” প্রাণী হিসাবে পরিচিত, এবং তার যে দ্বৈত-গর্ত (dual-hole system) ব্যবস্থার অভাব তা দ্বারা বুঝায় যায় যে এটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার একেবারে শুরুর দিকের প্রানীদের একটি।
• তারা খুব কমই দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করে!
অনেকেই জেলিফিশের একটি দলকে ব্লুম বা ঝাঁক হিসাবে উল্লেখ করে, তবে তাদের “স্ম্যাক”ও বলা যেতে পারে। যাই হোক না কেন, জেলিফিশের একটি দল দেখা বিরল কারণ এই প্রাণীগুলি বেশিরভাগই একাকী ড্রিফটার। তারা শুধুমাত্র তখনই একসাথে জড়ো হয় যখন তারা সবাই একটি একক খাদ্য উৎসকে অনুসরণ করে।
• তারা পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক প্রানীদের একটি!
সমস্ত জেলিফিশের শরীরে নেমাটোসিস্ট বা স্টিংগিং স্ট্রাকচার বিদ্যমান, তবে প্রজাতির উপর নির্ভর করে তাদের হুল ফোটার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত জেলিফিশ সম্ভবত বক্স জেলিফিশ, একটি মাত্র হুল দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে হত্যা করতে সক্ষম। প্রতিটি বক্স জেলিফিশ ৬০ টিরও বেশি মানুষকে হত্যা করার জন্য পর্যাপ্ত বিষ বহন করে। আশার কথা এই যে, অষ্ট্রেলিয়ান গবেষকরা বক্স জেলিফিশের দংশনের সম্ভাব্য প্রতিষেধক তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে।
• জেলিফিশ ক্ষুদ্র থেকে বিশালাকারও হতে পারে!
কিছু জেলিফিশ এতই ছোট যে তারা সাগরের স্রোতে প্রায় অদৃশ্য। সবচেয়ে ছোট হল Staurocladia এবং Eleutheria গনের জেলিফিশ। তাদের বেলের ব্যাস শুধুমাত্র ০.৫ মিমি. থেকে কয়েক মিমি. পর্যন্ত। অন্যদিকে, লায়ন’স ম্যানে (Cyanea capillata) জেলিফিশ গুলো তাদের ট্যাণ্টাকল গুলোকে ১২০ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত করতে পারে।
ওজন এবং ব্যাস এর ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম জেলিফিশ হলো টাইটানিক নোমুরা’স (Nemopilema nomurai), যার পাশে একজন ডুবুরিকে ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। এই প্রানীগুলোর বেলের ব্যাস ৬.৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ২০০ কেজির মতো।
• কিছু কিছু প্রজাতি খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়!
যদিও পৃথিবীর সব রেস্তোরায় এদের পাওয়া যায় না, তবে জেলিফিশ ভোজ্য। চায়না, জাপান এবং কোরিয়ার মতো বেশ কিছু জায়গায় এটি খুব মজার খাবার হিসেবে বিবেচিত। প্রকৃতপক্ষে, জাপানিরা জেলিফিশকে ক্যান্ডিতে রূপান্তরিত করেছে, এক ধরনের মিষ্টি এবং নোনতা ক্যারামেল, চিনি, স্টার্চ সিরাপ এবং জেলিফিশ পাউডার দিয়ে তৈরী করা হয় যা ব্যয়বহুল ও সুস্বাদুও বটে। এছাড়াও সালাদে, নুডলসে এবং সয়া সস দিয়ে প্রায়শই এদের খাওয়া হয়।
• তারা মহাকাশও ভ্রমন করেছে!
নাসা প্রথম ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে কলম্বিয়া স্পেস শাটলের মাধ্যমে মহাকাশে জেলিফিশ পাঠাতে শুরু করে যাতে তারা কীভাবে শূন্য-মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে তা পরীক্ষা করে। এর কারণ, মানুষ এবং জেলিফিশ উভয়ই নিজেদের অভিমুখী করার জন্য বিশেষ মাধ্যাকর্ষণ-সংবেদনশীল ক্যালসিয়াম স্ফটিকগুলির উপর নির্ভর করে। (এই স্ফটিকগুলি মানুষের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ কানের ভিতরে এবং জেলিফিশের দেহের নীচের প্রান্ত বরাবর অবস্থিত।) সুতরাং, মহাকাশে জেলিফিশ কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে তা অধ্যয়ন করলে মানুষ কীভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে, সে সম্পর্কে সূত্রপাত হতে পারে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর