বিডি প্রতিবেদক :
‘পিরিয়ডবান্ধব বিশ্ব গড়তে সবাই একসাথে’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কক্সবাজারের উদ্যোগে ইউনিসেফ ও ওয়াশ সেক্টরের অংশীদার সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওয়াশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, এবারের বৈশ্বিক অভিযানের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা। যেখানে মাসিককে স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এবং কোনো নারী বা কিশোরী তথ্যের অভাব, সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য কিংবা নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাবে পিছিয়ে পড়বে না।এ বছরের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিদ্যালয়ে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা’।
কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ওয়াশ সেক্টরের অংশীদার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কক্সবাজারের ছয়টি বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও আটজন শিক্ষক ছিলেন। পরে কেক কেটে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীরা গল্প বলা ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশ্বে এখনও প্রায় ৫০ কোটি নারী ও কিশোরী নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশে সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বিদ্যালয়ভিত্তিক নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি শিক্ষা এবং মাসিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কক্সবাজারেও বিদ্যালয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আলোচনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়গুলোতে মাসিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাসিকের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিসেফের কক্সবাজার ফিল্ড অফিস প্রধান দীপিকা শর্মা, হাইসোয়া প্রকল্পের কক্সবাজার অফিস প্রধান এনামুল হক মণ্ডল, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর ইউনিসেফের মুসা, এলিজাবেথসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিগণ।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়গুলোতে মাসিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন মাসিকের কারণে পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ইউনিসেফ প্রধান দীপিকা শর্মা বলেন, নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিদ্যালয় ও কমিউনিটিতে কিশোরীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
এনামুল হক মণ্ডল বলেন, মাসিক নিয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার ও সামাজিক সংকোচ দূর করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফ্যাম এর প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান বলেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির উন্নয়নের সঙ্গে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; তাই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
মুসা, এলিজাবেথসহ অন্যান্য অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা মাসিককে ঘিরে সামাজিক নীরবতা ও বৈষম্য দূর করে প্রতিটি বিদ্যালয়কে মাসিকবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী বলেন, কোনো কিশোরী যেন শুধুমাত্র মাসিকের কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত না থাকে বা লেখাপড়া থেকে ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ জন্য মাসিক নিয়ে লজ্জা, কুসংস্কার ও নীরবতা দূর করে প্রতিটি বিদ্যালয়কে মাসিকবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ‘নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে সম্মিলিত অঙ্গীকার’ শীর্ষক স্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বৈষম্যহীন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পিরিয়ডবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।