শিরোনাম :
কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার রামুতে সাড়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ: অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতের পথ নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি

দৈনিক কক্সবাজারের নেপথ্য স্তম্ভের বিদায়

নিউজ রুম / ১৬৮ বার পড়ছে
আপলোড : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

এম জাহেদ চৌধুরী :
মনোয়ারা ইসলাম। একজন নির্ভেজাল মানুষ। সহজেই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আপন করে নেওয়ার সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গুণাবলি ছিল তাঁর। তিনি আমাকে দেখতেন নিজের ছেলের মতো। কখন নাস্তা করতে হবে, কখন ভাত খেতে হবে আবার কখন চা-এর টক উঠেছে আমার চেহারা দেখেই বুঝতেন। ডাক দিতেন সাথে সাথে। অথবা নিজ ঘরে গড়ে তোলা দৈনিক কক্সবাজার এর নিউজ ডেক্সে পাঠিয়ে দিতেন। মায়া-মমতা-আন্তরিকতার কমতি দেখিনি কোনদিন। তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার করিডোরে নিজের মায়ের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছি টানা পাঁচ বছর।
১৯৯৩ থেকে ৯৭ সাল। ওই সময়টুকু কাটিয়েছি কক্সবাজার শহরের রুমালির ছড়াস্থ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বাস ভবনে। বাসাটি ছিল একদিকে বসতঘর, অপরদিকে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার থেকে প্রথম প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার অফিস। অর্থাৎ একের ভেতর দুই।
পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। পরিচালনা সম্পাদক ছিলেন তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী মুজিবুল ইসলাম। উনারা ক্বিতাবি দায়িত্বশীল হলেও পত্রিকাটির সুনাম বাড়ানো, প্রসার ঘটানো, পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাসহ বর্তমানে জেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার নেপথ্য কারিগর কিন্তু মনোয়ারা ইসলাম। যাকে আমি খালাম্মা সম্বোধন করতাম। তিনি আর কেউ নন – আজ ৬ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রিয় খালামনি মনোয়ারা ইসলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থার প্রতিক মোহাম্মদ নুরুল ইসলামে সুযোগ্য সহ-ধর্মীনি।
পুরো রাত আমাদের সাথে ( পত্রিকা ডেক্সে কর্মরতদের) নির্ঘুম থাকতেন তিনিও। কিছুক্ষণ পর পর খোঁজ নিতেন পাঠকের জন্য বিশেষ করে নির্যাতিত নিপিড়ীত অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কি নিউজ পরদিনের পত্রিকায় যাচ্ছে তা-ই। আলসেমি ভর করতোনা সেই খালামনির অনুপ্রেরণায়। অল্পক্ষণ পর পরই চা আসতো টেবিলে। সাথে থাকতো বিস্কুট। তাইতো আজও ভুলতে পারিনা খালামনিকে। জনমে ভুলতে পারবোওনা।
যতদিন দৈনিক কক্সবাজার থাকবে ততদিন পত্রিকাটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকবেন খালাম্মা মনোয়ারা ইসলাম। পত্রিকা ছাড়াও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলা তিন ছেলে ও দুই মেয়ে তাঁর বহুমুখী যোগ্যতার প্রমাণ মেলে। সাংবাদিক,রাজনীতি, ব্যবসা ও জনপ্রতিনিধির প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলোর প্রদীপ হয়ে মানবসেবায় প্রতিনিধিত্ব করছেন মনোয়ারা ইসলামের গড়ে তোলা সুযোগ্য সন্তানেরা।
সেই সন্তানসহ নিজের মানবতার কর্মগুণেই মহান আল্লাহতালা মরহুমা মনোয়ারা ইসলামকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করবেন,দৃঢ বিশ্বাস আমার ।

লেখক: সভাপতি চকরিয়া প্রেসক্লাব
চকরিয়া পেকুয়া প্রতিনিধি দৈনিক পূর্বকোণ
চকরিয়া প্রতিনিধি, প্রতিদিনের বাংলাদেশ


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর