শিরোনাম :
কক্সবাজারে শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কক্সবাজারে চাকরি মেলায় নিশ্চিত হলো ১৩২ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস : নিজ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের হাতি বাঁচলে টিকবে জীববৈচিত্র্য, বাড়বে বনাঞ্চলের সবুজায়ন ক্ষমতার জোরে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করতে চায় বিএনপি: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খুশি প্রধানমন্ত্রী চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মিয়ানমারের কারাগারে সাজা শেষে ফিরলো ১৭৩ বাংলাদেশী

নিউজ রুম / ১৮৫ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

মিয়ানমারের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে ১৭৩ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাটে এসে পৌঁছায়।

এর আগে আগে গভীর সাগরে অবস্থানরত মিয়ানমার প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘নেভাল শিপ চিন ডুইন’ জাহাজ থেকে এসব বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর একটি জাহাজে তোলা হয়।

আজ বেলা ১১টার দিকে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজার এসে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার পৌঁছার পর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে গাড়িতে রওয়ানা হয়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। যেখানে বিজিবির অধীনে রয়েছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয়রত মিয়ানমারের সেনা ও বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২৮৫ সদস্য। তাদের গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার মিয়ানমার ফেরত যাবে প্রতিনিধি দলটি।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, মিয়ানমারে কারাভোগ করা ১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দুপুরে নুনিয়ারছড়া ঘাটে এসে পৌঁছেছে। আরও বাংলাদেশি মিয়ানমারের কারাগারে আছে, কারণ তারা সঠিক তথ্য না দেয়নি। তারপরও যারা কারাগারে আছেন, তাদেরকে ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা ১৭৩ জনের মধ্যে ১২৯ জন কক্সবাজার জেলার, ৩০ জন বান্দরবান জেলার, সাতজন রাঙামাটি জেলার এবং খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, নরসিংদী ও নীলফামারী জেলার একজন করে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহাফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফেরত আসাদের বিজিবি গ্রহণ করে পুলিশকে হস্তান্তর করবে। তারপর যাচাই-বাছাই শেষে স্ব স্ব থানার পুলিশের মাধ্যমে তাদেরকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি জানান, ১৭৩ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪৪ জন কারাগারে পূর্ণ মেয়াদে সাজাভোগ করেছেন এবং ২৯ জন মিশনের প্রচেষ্টায় ক্ষমা পেয়ে বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন।

তিনি আরও জানান, মূলত এসব বাংলাদেশিদের নিয়ে আসা মিয়ানমারের জাহাজটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয়রত মিয়ানমারের সেনা ও বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২৮৫ সদস্যকে নিয়ে ফেরত যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ থেকে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনা বাহিনী ও বিজিপির সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। আরাকান আর্মির হামলায় গত কয়েক মাসে দেশটির সরকারি বাহিনীর কয়েক শত সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল এক দিনে নতুন ২৪ জন, ১৬ এপ্রিল ৬৪ জন, ১৪ এপ্রিল ১৪ জন, গত ৩০ মার্চ ৩ জন ও ১ মার্চ ১৭৭ জন বিজিপি ও সেনাসদস্য পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

এরও আগে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে কয়েক দফায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন আরও ৩৩০ জন। যাদের গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩৩০ জনকেই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

প্রথম দফায় ফেরতের সময় ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ এবং সংশ্লিষ্টরা কথা বললেও এবার তা হচ্ছে না। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের গ্রহণ এবং ২৮৫ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রেসব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর