সাকলাইন আলিফ :
মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলা সংঘাতের জের ধরে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫২ সদস্য। তাদেরকে বিজিবি ও পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শিশু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে আতংক দেখা দেয়।
আজ রবিবার সকালে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং এলাকায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দেয় স্হানীয় গ্রামবাসী। পরে বিজিবি সেনাবাহিনী র্যাব সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ঘটনাস্থলে আসে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমেদ আনোয়ারী সহ নেতৃবৃন্দ।
মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত আফনান ওরফে পুতুনি (১২) হোয়াইকং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে, সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
প্রথমে পুলিশের পক্ষে ‘ শিশুটি মারা গেছে ‘ বলা হলেও দুপুর আড়াইটায় গণমাধ্যমকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রথম উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাই মনে করেছে শিশুটা মারা গেছে, কিন্তু তা সঠিক নয়। কুতুপালং হাসপাতাল থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজারে প্রেরণ করা হয় এখন সেখান থেকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে তবে অবস্থা আশংকাজনক।
টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বিজিবি ও পুলিশ ওপারের ৫২ জন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীকে আটক করে, বর্তমানে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিশু আফনান গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাস্তায় এসে বিক্ষোভ করে স্থানীয় জনতা, করা হয় মহাসড়ক অবরোধ। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী জানিয়েছেন , ‘ সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। জনগণ অবরোধ তুলে নিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় কোন বিদেশি বিদ্রোহী গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। আমরা চাইনা ওপারে ঘটনায় এপারে কোন বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হোক।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে ওপারে দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। গোলাগুলি ও সংঘাতের কারণে আতংকে রয়েছেন স্থানীয়রা।