শিরোনাম :
নবর্বষ ও হালখাতা কক্সবাজারের মগনামায় ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আইএসডিই জাতীয়করণের দাবিতে কক্সবাজার ডিসি কলেজের স্মারকলিপি উখিয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার দেড় শতাধিক পরিবার পেল কৃষি উপকরণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধও অকার্যকর : নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে ঈদ উপহার উখিয়া উপজেলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা পেকুয়ায় মানবিক সহায়তাঃ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে এক হাজার পরিবারে খাদ্য বিতরণ আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রামে ১৫টি স্থানীয় সিবিওদের মাঝে ১৮, ৯১,৩০৮ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া

কিংবদন্তী গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার আর নেই

নিউজ রুম / ১৩৭ বার পড়ছে
আপলোড : সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিডি বিনোদন প্রতিবেদক :
একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়,একজন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এর জন্য শ্রদ্ধা ভালোবাসা
‘জয় বাংলা বাংলার জয়’,
‘একতারা তুই দেশের কথা বল’ ও ‘একবার যেতে দে না’।
এমন বহু কালজয়ী গানের কারিগর
গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
বিবিসি’র জরিপে সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের মধ্যে উল্লেখিত তিনটি গানের রচয়িতা এ, গুণী গীতিকবি
চিরদিনে মতো চলে গলেন কিংবদন্তি গীতিকবি, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না…রাজিউন)।
আজ রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৭টা ৫৫ ‍মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। গীতিকবির ভাগনে অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’-সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের এই রচয়িতা গীতিকবি সংঘের আজীবন সদস্য ছিলেন।তিনি ২০০২ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি স্বাধীন দেশের সর্বপ্রথম পুরস্কার বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়াও পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিকবার বাচসাস পুরস্কার, বিজেএমই অ্যাওয়ার্ড, ডেইলি স্টার কর্তৃক লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ডসহ তার অর্জিত পুরস্কারের সংখ্যা ১১০।
দীর্ঘ ৬০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২০ হাজারের বেশি গান রচনা করেছেন। বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় তার লেখা তিনটি গান রয়েছে। তার লেখা আরও কালজয়ী কিছু গান হলো- ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘ও পাখি তোর যন্ত্রণা’, ‘ইশারায় শীষ দিয়ে’, ‘চোখের নজর এমনি কইরা’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ প্রভৃতি।
বিশ হাজারেরও বেশি গানের গীতিকার তিনি। যার অসংখ্য গান মানুষের মুখেমুখে। তারমধ্যে অন্যতম জয় বাংলা বাংলার জয়, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল, একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়, জন্ম আমার ধন্য হলো’র মতো দেশাত্মবোধক গান যেমন আছে, তেমনি সিনেমার জন্য আছে গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে, আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল, যার ছায়া পড়েছে, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ও পাখি তোর যন্ত্রণা, ইশারায় শীষ দিয়ে, চোখের নজর এমনি কইরা, এই মন তোমাকে দিলাম -এর মতো কালোত্তীর্ণ আধুনিক গান।
বিবিসি বাংলা তৈরিকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান।
১৯৪৩ সালের ফেব্রয়ারিতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাজহারুল আনোয়ার। ষাটের শুরুতে গান লেখার হাতেখড়ি। ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানে গান লিখে ৫০ টাকা আয়ের মাধ্যমে তার পেশাদার গীতিকার জীবন শুরু। আর ১৯৬৫ সালে যুক্ত হন চলচ্চিত্রের সাথে। সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি দিয়ে চলচ্চিত্রের গান লেখা শুরু গাজী মাজহারুল আনোয়ারের।
শুধু গীতিকার হিসেবে নন, তিনি একজন সফল কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালকও। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘দেশ চিত্রকথা’। তার প্রযোজিত ও পরিচালিত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম শাস্তি, স্বাধীন, শর্ত, সমর, শ্রদ্ধা, ক্ষুধা, স্নেহ, তপস্যা, উল্কা, আম্মা, পরাধীন, আর্তনাদ,পাষাণের প্রেম, এই যে দুনিয়া।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ বার গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়াও ২০০২ সালে একুশে পদক, ২০২১ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্মৃতি পদক, একাধিকবার বাচসাস পদক সহ অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে তার অর্জনে।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর