শিরোনাম :
কক্সবাজারের মহেশখালীর মানুষের মুখে হাসি ফুটালো আইএসডিই বাংলাদেশ সড়কের আশপাশে পশুর হাট বসলে আইনি ব্যবস্থা -এমপি কাজল চকরিয়ায় বি.এম চর ইউনিয়নে ১৫শ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর এর স্থায়ী শেল্টার নির্মাণ জনমতের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ এপিবিএন সদস্য আটক হামের তীব্র ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী; মাঠে এমএসএফ ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ :সভাপতি আলমগীর : সম্পাদক মাসুম আজ সে ভয়াল ২৯ এপ্রিল :উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন কক্সবাজারে নয়ন সাধু নামে এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা সেই ইউপি সদস্য রুস্তম আলী অবশেষে মুক্ত

সৈকতে হঠাৎ আবর্জনা

নিউজ রুম / ১৮৯ বার পড়ছে
আপলোড : রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

সাকলাইন আলিফ :

মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ আবর্জনা ভেসে আসছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। এতে করে সমুদ্র সৈকতের শ্রীহানি হচ্ছে। পর্যটকদের হাঁটাচলায় সমস্যা হচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা ইতিমধ্যে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সবগুলো অপসারণের কথা বলছে। সৈকতে বারবার আবর্জনা আসার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। সৈকতের প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। কিন্তু সেই সৈকতে হঠাৎ করে দেশে আসছে নানা প্রকার বর্জ্য। সমুদ্র সৈকতের, কলাতলী থেকে শুরু করে নাজিরার টেক পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো সৈকত জুড়ে নানা আবর্জনার স্তুপ। এখানে কাট, বাঁশ, গাছের গুড়ি, প্লাস্টিক সহ নানা প্রকার বর্জ্য রয়েছে। কচ্ছপ সহ ছোট কিছু প্রাণী ভেসে আসার কথাও জানিয়েছে অনেকে। তবে এই ময়লা আবর্জনা গুলো কোথা থেকে কেন কিভাবে আসছে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
সমুদ্রের বালিকা মাদ্রাসা পয়েন্টে কথা হয় মাছ ধরতে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম রফিকুল ইসলামের সাথে, তারা আবর্জনার স্তূপ থেকে অনেকগুলো গাছ আর বাঁশ কুড়িয়ে
নিচ্ছিলেন, এ সময় তারা বলেন, হঠাৎ এ পর যেগুলো কোথা থেকে কিভাবে এসেছে আমরা কিছুই জানিনা। আমরা পেয়েছি, তাই জ্বালানি হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।
সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টে স্থানীয় বাহার ছড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরতে এসেছিলাম, কিছু মাছও পেয়েছি, সাথে আবর্জনার সাথে ভেসে আসা কাঠ আর কিছু জিনিস পেলাম।
সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে ফটোগ্রাফার আব্দুর রহিম বলেন, মঙ্গলবার সকালে একটি কাছিম ভেসে আসার পর, আমরা কয়েকজন মিলে তা বালির গর্ত করে পুঁতে পেলেছি।
সবগুলো সৈকতে ময়লা আবর্জনা ভেসে আসার বিষয়টি নজরে আসার পর লাইফ গার্ড কর্মী আব্দু শুক্কুর জেলা প্রশাসনকে জানানোর কথা জানান।
সৈকতে ময়লা আবর্জনা আসার খবর পেয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের একটি টিম সৈকতের ছুটে এসে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছে। সমন্বয়ক আজিমা আক্তার রিমা বলেন, কক্সবাজার একটি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এখানে আবর্জনা আসার খবর পেয়ে আমরা ছুটে এসেছি। আমরা এগুলো পরিষ্কার করে ফেলব।
পরিবেশবিদ এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন,
২০১৮ সাল, ১৯ সাল ও ২১ সালে একাধিকবার সৈকতে আবর্জনা ভেসে আসে। সে সময় মরা কাছিমসহ অনেকগুলো ছোট প্রাণীও এসেছিল। ওই সময়ে প্রশাসন কে সহযোগিতার  জন্য আমরা  আবর্জনা পরিষ্কার করেছিলাম ।ওই সময়ে ময়লা গুলো কোথা থেকে কেন এসেছে তা নিয়ে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি করলেও পরবর্তীতে কিছু জানা যায়নি। তাই সৈকতে বিপর্যয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে অনুসন্ধানের কথা বলেন এই পরিবেশবিদ।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোঃ মঞ্জুর মোরশেদ বলেন,
সৈকতে আবর্জনা ভেসে আসার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ইতোমধ্যে ময়লা গুলো অপসারণে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সৈকত পরিষ্কার করে ফেলতে পারব।
গত বছর সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সোনাদিয়া দ্বীপে অনেকগুলো বিদেশি আবর্জনা ভেসে এসেছিল। সাগর ও উপকূলের পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর