শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সৈকতে সামুদ্রিক বর্জ্য পরিষ্কার অভযান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় জেন্ডার-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা চর্চায় কক্সবাজারে পিআইবির কর্মশালা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা উখিয়া-টেকনাফে হোমস্টেড গার্ডেনিংয়ের প্রভাব নিয়ে সমীক্ষার ফল স্ট্যান্ড রিলিজের পরও কক্সবাজার বিমানবন্দর ছাড়ছেন না ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গোলাম মোর্তোজা সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নে ওয়ার্ল্ড ভিশনের নতুন অভিযাত্রা উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্র-মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগ :আতঙ্কে স্থানীয়রা: অভিযানের দাবী কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ

নেছার আহমদ

নিউজ রুম / ১৯৬ বার পড়ছে
আপলোড : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

নেছার আহমদ:

সম্ভবত ১৯৮৯ সাল। আমি তখন কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীতে পড়ুয়া। বাবা ছিলেন আধারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরিবারে আমি সবার বড়। একদিন সকাল ৮টার দিকে বাবা বললেন সাথে যাবার জন্য। বাবার নাকি বিদ্যালয় সংক্রান্ত জরুরি কাজ আছে। বাবা বিদ্যালয়ে যাবার পথে নোনাছড়ি বাজার থেকে মাছ তরকারী কিনে দেবেন। বাড়ি থেকে বাহির হয়ে বাবার পেছন পেছন হেটে যাচ্ছিলাম। পথে যাদের সাথে দেখা হল সকলে বাবাকে সালাম দিলো; বাবাও সকলের সাথে কোশল বিনিময় করলেন। বাবা খুব দ্রুত হাটতেন। বাবার পিছু পিছু হাটতে আমার কষ্ট হত। কিছু দুর গিয়ে বাবা হাটার গতি কমিয়ে দিলেন। সামনে একজন বৃদ্ধ লোক লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে হাটছিলেন। বাবা ওই বৃদ্ধ লোকটির কাছে গিয়ে চাচা সম্বোধন করে সালাম দিলেন। আমিও সালাম দিলাম। বাবা বৃদ্ধ লোকটিকে অনুরুধ জানালেন, চাচা আমার একটু জরুরি কাজ আছে, যদি যাবার অনুমতি দিতেন। বৃদ্ধ মানুষটি বাবাকে গায়ে হাত বুলিয়ে যেতে বললেন। বাবা হাটার গতি আবার বাড়ালেন। আমিও বাবার পিছু হাটতে হাটতে জানতে চাইলাম, বাবা লোকটি কে? আপনার কোন আত্মিয় কিনা? বাবা জানালেন লোকটিকে আমি চিনিনা।
এর পর বাবা বলতে লাগলেন, তোমার মত বয়স আমারও ছিল, ওই বৃদ্ধ লোকটিরও আমার ও তোমার মত বয়স ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা হাত পা নেড়ে সুস্থ সবল ভাবে হেটে যাচ্ছি। ততদিন বেছে থাকলে আমাদেরও সময় আসবে লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে হাটতে হবে। অপরিচিত হলেও আমরা যদি বৃদ্ধ বা মুরুব্বিদের সম্মান না করি, আমাদেরও কেউ সম্মান করবেনা। বৃদ্ধ বা মুরুব্বি, শিক্ষক, আলেম সমাজকে সম্মান দিলে নিজেরা সম্মানিত হয়। এ বৃদ্ধ লোকটি আমাদের দোয়া করেছেন। জীবনে দোয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দোয়া জীবন চলার পথে অনেক বিপদ কেটে যাবে।
বাবার এ শিক্ষাটি আজ খুব মনে পড়ে।
২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর আমার বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। লাঠি হাতে কুজো হয়ে হাটার আগেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন।
বাবা বুক ভরা সাহস আর খুব প্রতিবাদি ছিলেন। অন্তত বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের এমন অবস্থা দেখতে হয়নি বাবাকে। সকল শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ছাত্র-শিক্ষক মধুর সম্পর্ক ফিরে আসুক।
আল্লাহ আমার শিক্ষক বাবাকে তুমি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্ছ স্থানে আসিন করিও আমিন।

 


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর