শিরোনাম :
হাইসাওয়ার উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে কক্সবাজারের উপকূলের মানুষের জীবন কক্সবাজারে শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কক্সবাজারে চাকরি মেলায় নিশ্চিত হলো ১৩২ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস : নিজ দেশে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের হাতি বাঁচলে টিকবে জীববৈচিত্র্য, বাড়বে বনাঞ্চলের সবুজায়ন ক্ষমতার জোরে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখান করতে চায় বিএনপি: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ খুশি প্রধানমন্ত্রী চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর না করা: কূটনৈতিক দূরদর্শিতার একটি বার্তা কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করে-প্রধানমন্ত্রী

নেছার আহমদ

নিউজ রুম / ১৭৯ বার পড়ছে
আপলোড : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

নেছার আহমদ:

সম্ভবত ১৯৮৯ সাল। আমি তখন কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেনীতে পড়ুয়া। বাবা ছিলেন আধারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরিবারে আমি সবার বড়। একদিন সকাল ৮টার দিকে বাবা বললেন সাথে যাবার জন্য। বাবার নাকি বিদ্যালয় সংক্রান্ত জরুরি কাজ আছে। বাবা বিদ্যালয়ে যাবার পথে নোনাছড়ি বাজার থেকে মাছ তরকারী কিনে দেবেন। বাড়ি থেকে বাহির হয়ে বাবার পেছন পেছন হেটে যাচ্ছিলাম। পথে যাদের সাথে দেখা হল সকলে বাবাকে সালাম দিলো; বাবাও সকলের সাথে কোশল বিনিময় করলেন। বাবা খুব দ্রুত হাটতেন। বাবার পিছু পিছু হাটতে আমার কষ্ট হত। কিছু দুর গিয়ে বাবা হাটার গতি কমিয়ে দিলেন। সামনে একজন বৃদ্ধ লোক লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে হাটছিলেন। বাবা ওই বৃদ্ধ লোকটির কাছে গিয়ে চাচা সম্বোধন করে সালাম দিলেন। আমিও সালাম দিলাম। বাবা বৃদ্ধ লোকটিকে অনুরুধ জানালেন, চাচা আমার একটু জরুরি কাজ আছে, যদি যাবার অনুমতি দিতেন। বৃদ্ধ মানুষটি বাবাকে গায়ে হাত বুলিয়ে যেতে বললেন। বাবা হাটার গতি আবার বাড়ালেন। আমিও বাবার পিছু হাটতে হাটতে জানতে চাইলাম, বাবা লোকটি কে? আপনার কোন আত্মিয় কিনা? বাবা জানালেন লোকটিকে আমি চিনিনা।
এর পর বাবা বলতে লাগলেন, তোমার মত বয়স আমারও ছিল, ওই বৃদ্ধ লোকটিরও আমার ও তোমার মত বয়স ছিল। আল্লাহর রহমতে আমরা হাত পা নেড়ে সুস্থ সবল ভাবে হেটে যাচ্ছি। ততদিন বেছে থাকলে আমাদেরও সময় আসবে লাঠিতে ভর দিয়ে কুজো হয়ে হাটতে হবে। অপরিচিত হলেও আমরা যদি বৃদ্ধ বা মুরুব্বিদের সম্মান না করি, আমাদেরও কেউ সম্মান করবেনা। বৃদ্ধ বা মুরুব্বি, শিক্ষক, আলেম সমাজকে সম্মান দিলে নিজেরা সম্মানিত হয়। এ বৃদ্ধ লোকটি আমাদের দোয়া করেছেন। জীবনে দোয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দোয়া জীবন চলার পথে অনেক বিপদ কেটে যাবে।
বাবার এ শিক্ষাটি আজ খুব মনে পড়ে।
২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর আমার বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। লাঠি হাতে কুজো হয়ে হাটার আগেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন।
বাবা বুক ভরা সাহস আর খুব প্রতিবাদি ছিলেন। অন্তত বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের এমন অবস্থা দেখতে হয়নি বাবাকে। সকল শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ছাত্র-শিক্ষক মধুর সম্পর্ক ফিরে আসুক।
আল্লাহ আমার শিক্ষক বাবাকে তুমি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্ছ স্থানে আসিন করিও আমিন।

 


আরো বিভিন্ন বিভাগের খবর